চেন্নাই: মহিন্দ্রা স্করপিও ক্লাসিকের (Scorpio Classic) নতুন ছবি নিয়ে সম্প্রতি অনলাইনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবিগুলিতে আপডেটেড ডিজাইনের স্করপিও ক্লাসিক দেখা যাওয়ায় অনেকেরই ধারণা হয়েছে, এগুলি হয়তো নতুন ফেসলিফট মডেলের ফাঁস হওয়া ছবি। কিন্তু বাস্তবতা একটু আলাদা। ভাইরাল ছবিগুলি মহিন্দ্রার অফিসিয়াল ছবি নয়। এগুলি ডিজিটালি তৈরি থ্রি-ডি রেন্ডার, যেখানে স্করপিও ক্লাসিকের সম্ভাব্য ফেসলিফট কেমন দেখতে পারে, তার একটি ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।
স্করপিও ক্লাসিক এখনও তার শক্তপোক্ত চেহারা এবং পরিচিত এসইউভি চরিত্রের জন্য জনপ্রিয়। তাই সম্ভাব্য নতুন ডিজাইন এবং মহিন্দ্রা সত্যিই কী করতে চলেছে, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
ভাইরাল ছবি কি নতুন স্করপিও ক্লাসিকের আসল ছবি?
না। স্করপিও ক্লাসিকের যে ছবিগুলি অনলাইনে ছড়িয়েছে, সেগুলি কোনও ইন্ডাস্ট্রি-স্ট্যান্ডার্ড রেন্ডার নয়। এগুলি কোনও কারখানা থেকে ফাঁস হওয়া ছবি বা পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইটের ছবি বলেও প্রমাণ নেই।
ছবিগুলি আসলে থ্রি-ডি রেন্ডার, যা ব্যক্তিগতভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে ডিজাইনটি যথেষ্ট বাস্তবসম্মত হওয়ায় অনেকের কাছে এটি আসল ফেসলিফটের ছবি বলে মনে হয়েছে। রেন্ডারে গ্রিলের নকশা এবং বাম্পারের আকৃতির মতো কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তন দেখা যায়। তবে এগুলি কোনও অফিসিয়াল ডিজাইন নয়।
মহিন্দ্রা কি স্করপিও ক্লাসিকের ফেসলিফট আনছে?
এই মুহূর্তে স্করপিও ক্লাসিকের কোনও বড় আপডেট নিয়ে মহিন্দ্রা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। একইসঙ্গে, ফেসলিফটের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন কোনও রেজিস্টার্ড পেটেন্টের তথ্যও সামনে আসেনি।
বর্তমান স্করপিও ক্লাসিক ২০০২ সালে প্রথম স্করপিও বাজারে আসার পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন পেয়েছে। তবে এর মূল ডিজাইন এবং চরিত্র দীর্ঘদিন ধরে একই রকম রয়েছে।
মডেলটির বিক্রি যথেষ্ট শক্তিশালী থাকায় মহিন্দ্রা এখনও এটিকে বাজারে রেখেছে। সময়ের সঙ্গে ছোটখাটো আপডেট এলেও এখনই বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। তাই ভাইরাল রেন্ডার দেখে স্করপিও ক্লাসিকের নতুন প্রোডাকশন মডেল শীঘ্রই বাজারে আসছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
রেন্ডারে কী কী পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে?
যদিও এগুলি অফিসিয়াল ছবি নয়, তবুও সম্ভাব্য ফেসলিফট হিসেবে রেন্ডারে বেশ কিছু আকর্ষণীয় পরিবর্তন দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ধরনের সামনের বাম্পার এবং আরও বড় ফক্স স্কিড প্লেট। ফগ ল্যাম্পের হাউজিংয়েও পরিবর্তন দেখানো হয়েছে।
এছাড়াও কালো ফিনিশের নতুন পাঁচ-স্পোক অ্যালয় হুইল এবং নতুন বডি ক্ল্যাডিং দেখা যাচ্ছে। বাইরের রিয়ার-ভিউ মিরর বা ওআরভিএম-এর সঙ্গে টার্ন ইন্ডিকেটর যুক্ত করার ধারণাও রয়েছে। পিছনে রুফ-মাউন্টেড স্পয়লার দেওয়া হয়েছে। স্পয়লারের মধ্যেই হাই-মাউন্টেড স্টপ ল্যাম্প রাখার কল্পনা করা হয়েছে। ভার্টিক্যাল টেল ল্যাম্পেও সামান্য পরিবর্তন দেখানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও স্পোর্টি রুফ রেল এবং বিভিন্ন ব্ল্যাক-আউটেড বাইরের অংশের ধারণা রয়েছে।
ইলেকট্রিক সানরুফ আসতে পারে?
রেন্ডারে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ইলেকট্রিক সানরুফ। বর্তমানে স্করপিও ক্লাসিকে সানরুফ নেই। অথচ ভারতের বিভিন্ন ধরনের এসইউভিতে সানরুফ এখন ক্রেতাদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় ফিচার।
ফলে স্করপিও ক্লাসিকে ভবিষ্যতে একটি সিঙ্গল-পেন ইলেকট্রিক সানরুফ যোগ করা হলে গাড়িটির আকর্ষণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁরা আধুনিক ফিচারের সঙ্গে স্করপিওর পুরনো ধাঁচের ডিজাইন চান, তাঁদের কাছে এটি আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে এটিও শুধুমাত্র রেন্ডারের ভিত্তিতে করা সম্ভাবনা। মহিন্দ্রা এমন কোনও ফিচার যোগ করার কথা এখনও নিশ্চিত করেনি।
স্করপিওর পরিচিত ডিজাইনই থাকছে
সম্ভাব্য ফেসলিফট রেন্ডারে স্করপিও ক্লাসিকের মূল ডিজাইন বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। বরং পরিচিত চেহারার মধ্যে কিছু নতুনত্ব যোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। স্করপিওর লম্বা, বক্সি এবং উঁচু গড়ন এখনও এর সবচেয়ে বড় পরিচয়। ফাংশনাল বনেট স্কুপও গাড়িটির পুরনো দিনের এসইউভি চরিত্রকে ধরে রেখেছে।
সামনের দিকে রয়েছে টুইন-পড হেডল্যাম্প এবং ভ্রুর মতো এলইডি ডিআরএল। এগুলির মাঝখানে রয়েছে বড় এয়ার ড্যাম এবং ছয়-স্ল্যাট গ্রিল। বাম্পারের নিচের অংশে রয়েছে আরও এলইডি ডিআরএল, ফগ ল্যাম্প এবং লোয়ার এয়ার ড্যাম। ফক্স সিলভার স্কিড প্লেট পুরো সামনের অংশকে আরও রাগড চেহারা দেয়।
পাশ থেকে স্করপিওর সোজা এবং উঁচু অবস্থান স্পষ্ট। চাকার উপরে পেশিবহুল অংশ বা মাসকুলার হাঞ্চ গাড়িটিকে আরও শক্তপোক্ত চেহারা দেয়। উঁচু রুফলাইন এবং মোটা রুফ রেলও স্করপিওর পরিচিত বৈশিষ্ট্য।
পিছনের ডিজাইনও যথেষ্ট স্বতন্ত্র। লম্বা গড়ন, দুই পাশে লাল টেল ল্যাম্প এবং ফ্ল্যাট সাইড-হিঞ্জড টেলগেট এখনও স্করপিওর পুরনো চেহারাকে ধরে রেখেছে।
ইন্টেরিয়র কতটা আধুনিক?
স্করপিও ক্লাসিকের ইন্টেরিয়র কখনও বিলাসবহুলতার জন্য পরিচিত ছিল না। এর মূল লক্ষ্য ছিল কার্যকারিতা। সামনের আসনগুলি উঁচু এবং সোজা অবস্থানে রয়েছে। ফলে চালক ও সামনের যাত্রীরা বাইরে ভালোভাবে দেখতে পারেন। সামনের আসনে আলাদা আর্মরেস্ট রয়েছে।
পিছনের আসনেও বেসিক আরামের জন্য সেন্টার আর্মরেস্ট দেওয়া হয়েছে। বুটের জায়গায় রয়েছে দুটি ভাঁজ করা সাইড-ফেসিং আসন, যা পুরনো ধাঁচের ভারতীয় এসইউভির একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য। আজকের আধুনিক এসইউভির তুলনায় কেবিনের জায়গা খুব বেশি নয়। তবে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তা যথেষ্ট।
ফিচার ও সেফটি
পুরনো মডেল হওয়া সত্ত্বেও স্করপিও ক্লাসিকে বেশ কিছু আধুনিক ফিচার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯-ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, রিয়ার ওয়াশার ও ওয়াইপার এবং ক্রুজ কন্ট্রোল।
সেফটির ক্ষেত্রে রয়েছে দুটি এয়ারব্যাগ, রিয়ার পার্কিং সেন্সর, এবিএস এবং ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল বা ইএসসি। তবে রেন্ডারে দেখানো নতুন ফিচারগুলিকে বর্তমান স্করপিও ক্লাসিকের অফিসিয়াল ফিচার হিসেবে ধরা যাবে না।
স্করপিও ক্লাসিকের ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স
বর্তমানে স্করপিও ক্লাসিক একটি ইঞ্জিন অপশনের সঙ্গে পাওয়া যায়। এতে রয়েছে ২.২-লিটার এমহক ডিজেল ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ১৩১ পিএস শক্তি এবং ৩০০ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। এর সঙ্গে রয়েছে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন।

স্করপিও ক্লাসিকের সম্ভাব্য ফেসলিফট নিয়ে যে ছবিগুলি ভাইরাল হয়েছে, সেগুলি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। নতুন বাম্পার, অ্যালয় হুইল, বডি ক্ল্যাডিং, রুফ স্পয়লার, টেল ল্যাম্পের পরিবর্তন এবং ইলেকট্রিক সানরুফের মতো বেশ কিছু সম্ভাব্য পরিবর্তন এতে দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ছবিগুলি মহিন্দ্রার অফিসিয়াল ছবি নয় এবং এগুলিকে স্করপিও ক্লাসিকের লিক হওয়া প্রোডাকশন ছবি বলা যাবে না। এগুলি একটি সম্ভাব্য ডিজাইন নিয়ে তৈরি ডিজিটাল রেন্ডার।
মহিন্দ্রা নতুন ফেসলিফটের কোনও পরিকল্পনা ঘোষণা না করা পর্যন্ত তাই এই ছবিগুলিকে সম্ভাব্য ডিজাইন হিসেবেই দেখা উচিত। ভবিষ্যতে যদি মহিন্দ্রা সত্যিই স্করপিও ক্লাসিকে বড় আপডেট আনে, তখন অফিসিয়াল তথ্যই হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র।
