ভারতের বাজারে নতুন অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল নিয়ে আসার প্রস্তুতি শেষ করেছে রয়্যাল এনফিল্ড (Royal Enfield)। আগামীকাল, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভারতে লঞ্চ হবে নতুন রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০। নতুন এই বাইকটি স্ক্র্যাম ৪৪০-এর প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এবং হিমালয়ান ৪৫০-এর নিচে অবস্থান করবে। তুলনামূলক সরল ডিজাইন ও সেটআপের মাধ্যমে অ্যাডভেঞ্চার বাইক হিসেবে এটিকে আরও ব্যবহারিক বিকল্প হিসেবে বাজারে আনার পরিকল্পনা করেছে সংস্থা। লঞ্চের আগে বাইকটি সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।
হিমালয়ান ৪১১-এর মতো ডিজাইন
নতুন হিমালয়ান ৪৪০-এর ডিজাইনে পুরনো হিমালয়ান ৪১১-এর ছাপ স্পষ্ট থাকবে। বাইকটিতে রাখা হয়েছে মিনিমালিস্ট বডি প্যানেল, পেশিবহুল ধাতব ফুয়েল ট্যাঙ্ক এবং চওড়া হ্যান্ডেলবার। রাইডার ও পিলিয়নের জন্য রয়েছে স্প্লিট সিট সেটআপ। অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিংয়ের কথা মাথায় রেখে সামনে উইন্ডস্ক্রিনও থাকছে। পিছনের অংশে লাগেজ র্যাক দেওয়া হয়েছে, ফলে দীর্ঘ সফরে অতিরিক্ত ব্যাগ বা সরঞ্জাম বহনের সুবিধা পাওয়া যাবে। হিমালয়ান ৪৫০-এর তুলনায় নতুন মডেলটির ডিজাইন এবং সরঞ্জাম কিছুটা সরল রাখা হলেও অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যগুলি বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
স্ক্র্যাম ৪৪০-এর ইঞ্জিন
হিমালয়ান ৪৪০-তে ব্যবহার করা হবে রয়্যাল এনফিল্ড স্ক্র্যাম ৪৪০-তে থাকা একই ইঞ্জিন। স্ক্র্যাম ৪৪০-তে রয়েছে ৪৪৩ সিসির সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন থেকে পাওয়া যায় ২৫.৪ পিএস শক্তি এবং ৩৪ এনএম টর্ক। পুরনো হিমালয়ান ৪১১-এর তুলনায় স্ক্র্যাম ৪৪০-এর এই ইঞ্জিন ১.১ পিএস বেশি শক্তি এবং ২ এনএম বেশি টর্ক উৎপন্ন করে। ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স। হিমালয়ান ৪৪০-তেও একই ধরনের পাওয়ার আউটপুট পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাইকটির চূড়ান্ত শক্তি ও টর্কের পরিসংখ্যান লঞ্চের সময়ই নিশ্চিত হবে।
নতুন ইঞ্জিনের সামান্য বেশি শক্তি ও টর্ক এবং অতিরিক্ত ষষ্ঠ গিয়ার হাইওয়ে রাইডিংয়ে বাইকটিকে আরও উপযোগী করে তুলতে পারে। পুরনো হিমালয়ান ৪১১-এর ক্ষেত্রে হাইওয়েতে উচ্চ গতিতে দীর্ঘক্ষণ চলার সময় কিছুটা সীমাবদ্ধতা অনুভূত হত। নতুন মডেলে সেই জায়গায় উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২১ ইঞ্চির সামনের চাকা
অ্যাডভেঞ্চার বাইক হিসেবে হিমালয়ান ৪৪০-তে বড় সামনের চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। সামনে রয়েছে ২১ ইঞ্চির স্পোকড হুইল, আর পিছনে রয়েছে ১৭ ইঞ্চির স্পোকড হুইল। দুই চাকাতেই টিউব-যুক্ত টায়ার থাকবে। অসম রাস্তা এবং অফ-রোড পরিস্থিতিতে চলার জন্য সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে মনোশক সাসপেনশন দেওয়া হয়েছে। দুই প্রান্তেই লং-ট্রাভেল সাসপেনশন থাকার ফলে খারাপ রাস্তা বা পাথুরে পথে বাইকটির সক্ষমতা বাড়তে পারে। ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে ও পিছনে ডিস্ক ব্রেক থাকবে।
অ্যানালগ মিটার ও ট্রিপার নেভিগেশন
সম্প্রতি পরীক্ষামূলক অবস্থায় হিমালয়ান ৪৪০-কে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় বাইকটির ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টারের নকশাও স্পষ্ট হয়। স্ক্র্যাম ৪৪০-এর মতোই এখানে অ্যানালগ স্পিডোমিটারের সঙ্গে একটি এলসিডি ডিসপ্লে থাকবে। এই ডিসপ্লেতে ফুয়েল গেজ, ট্রিপ মিটার, ওডোমিটার এবং অন্যান্য রাইড সংক্রান্ত তথ্য দেখা যাবে।
এর পাশাপাশি রয়েছে ট্রিপার নেভিগেশন পড। ব্লুটুথ সংযোগের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন পাওয়া যাবে। দীর্ঘ দূরত্বের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিংয়ের ক্ষেত্রে এই ফিচারটি যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে।
হিমালয়ান ৪৫০-এর নিচে নতুন বিকল্প
রয়্যাল এনফিল্ডের বর্তমান অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল লাইনআপে হিমালয়ান ৪৫০ একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল। নতুন হিমালয়ান ৪৪০ সেই মডেলের নিচে অবস্থান করবে। ফলে তুলনামূলক কম জটিল এবং সরল সেটআপের অ্যাডভেঞ্চার বাইক খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের জন্য এটি বিকল্প হতে পারে।
আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বাইকটির আনুষ্ঠানিক লঞ্চের পরই এর সঠিক দাম, পাওয়ার-টর্ক, সম্পূর্ণ ফিচার তালিকা এবং ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে। তখনই বোঝা যাবে, হিমালয়ান ৪৪০ কীভাবে হিমালয়ান ৪৫০ এবং পুরনো হিমালয়ান ৪১১-এর মধ্যে নিজের জায়গা তৈরি করে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
