নয়াদিল্লি: অস্ট্রেলিয়ায় পোর্শের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একেবারে বিশেষ একটি স্পোর্টস কার সামনে নিয়ে এল জার্মান বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা সংস্থা পোর্শে। সংস্থাটি প্রকাশ করেছে ৯১১ (Porsche 911) টার্বো এস ল্যান্ড ডাউন আন্ডার। এটি একটি মাত্র গাড়ি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার জন্যই তৈরি এই বিশেষ সংস্করণ।
পোর্শের নিজস্ব সন্ডারভুনশ কাস্টমাইজেশন বিভাগ, স্টাইল পোর্শে ডিজাইন দল এবং সমকালীন শিল্পী ওয়ার্নার ব্রঙ্কহর্স্ট একসঙ্গে এই বিশেষ গাড়িটি তৈরি করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে গাড়িটির নকশায় তুলে ধরা হয়েছে।
রঙ বদলাবে গাড়ির বাইরের অংশ
৯১১ টার্বো এস ল্যান্ড ডাউন আন্ডারের সবচেয়ে নজরকাড়া বৈশিষ্ট্যগুলির একটি হল এর বিশেষ ক্রোমাফ্লেয়ার পেইন্ট ফিনিশ। আলো এবং দৃষ্টিকোণের সঙ্গে গাড়ির রঙের চেহারায় পরিবর্তন দেখা যাবে।
গাড়ির নিচের অংশে রয়েছে টেরা অস্ট্রালিস রেড, যা ধীরে ধীরে উপরের দিকে গিয়ে সাদার্ন ক্রস ব্লু রঙে পরিণত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য তৈরি কোনও গাড়িতে প্রথমবার এই ধরনের রঙ পরিবর্তনকারী পেইন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে পোর্শে।
এই বিশেষ রঙ তৈরি করতে মোট সাতটি হাতে আঁকা স্তর ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে গাড়িটির পেইন্ট ফিনিশে বিশেষ কারিগরি দক্ষতার ছাপ রয়েছে।
পোর্শের এই একমাত্র গাড়িটিকে শুধু একটি বিশেষ সংস্করণ হিসেবে নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার জন্য তৈরি একটি চলমান শিল্পকর্ম হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
কেবিনেও অস্ট্রেলিয়ার ছোঁয়া
গাড়িটির ভিতরেও সাধারণ ৯১১ টার্বো এস-এর তুলনায় একেবারে আলাদা সাজসজ্জা রয়েছে। কেবিনে ব্যবহার করা হয়েছে ডার্ক নাইট ব্লু রঙের আপহোলস্ট্রি। এর সঙ্গে রয়েছে বিশেষভাবে তৈরি কুলিবাহ ব্রাউন থিম।
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহাসিক পরিচয়কে কেবিনের বিভিন্ন অংশে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে সিল্কি ওক কাঠের ট্রিম।
গাড়ির ভিতরের বিভিন্ন নকশায় অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত উলুরু এবং ব্লু মাউন্টেনস-এর মতো স্থানের অনুপ্রেরণা রয়েছে। এমনকি গাড়ির ছাদের ভিতরের অংশেও বিশেষ সূচিকর্ম করা হয়েছে। সেখানে দক্ষিণ গোলার্ধের রাতের আকাশের নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ইঞ্জিনে কোনও পরিবর্তন নেই
বিশেষ সংস্করণ হলেও পোর্শে ৯১১ টার্বো এস ল্যান্ড ডাউন আন্ডারের যান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন করেনি। স্ট্যান্ডার্ড ৯১১ টার্বো এস-এর মতোই এতে রয়েছে ৩.৬ লিটারের টুইন-টার্বোচার্জড ফ্ল্যাট-সিক্স হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন। এই পাওয়ারট্রেন থেকে সম্মিলিতভাবে ৭০১ বিএইচপি শক্তি এবং ৮০০ নিউটন-মিটার টর্ক পাওয়া যায়।
ইঞ্জিনের শক্তি পিছনে পাঠানো হয় ৮-স্পিড পিডিকে ডুয়াল-ক্লাচ স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্সের মাধ্যমে। পারফরম্যান্সের দিক থেকেও গাড়িটি যথেষ্ট দ্রুত। পোর্শের দাবি অনুযায়ী, ৯১১ টার্বো এস ল্যান্ড ডাউন আন্ডার মাত্র ২.৫ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে পারে। অর্থাৎ নকশায় অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির ছাপ থাকলেও পারফরম্যান্সে এটি সম্পূর্ণ পোর্শে ৯১১ টার্বো এস।
পিছনের স্পয়লারের নিচে রয়েছে মজার চমক
গাড়িটির সবচেয়ে মজার বৈশিষ্ট্যগুলির একটি রয়েছে পিছনের অ্যাক্টিভ রিয়ার স্পয়লারের নিচে। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চললে স্পয়লারটি উপরে উঠে আসে। তখন তার নিচে দেখা যায় বিশেষ বার্তা: “সি ইয়া লেটার মেট”
অস্ট্রেলিয়ায় বহুল ব্যবহৃত এই পরিচিত কথাটিকে গাড়িটির নকশায় ব্যবহার করেছে পোর্শে। ফলে গাড়িটি শুধু অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে না, বরং স্থানীয় সংস্কৃতির একটি মজার দিকও তুলে ধরছে।
দাম কত?
৯১১ টার্বো এস ল্যান্ড ডাউন আন্ডারের আনুষ্ঠানিক দাম এখনও প্রকাশ করেনি পোর্শে অস্ট্রেলিয়া। তবে এটি একটি একটিমাত্র গাড়ি হিসেবে তৈরি বিশেষ সংস্করণ। ফলে সাধারণ ৯১১ টার্বো এস-এর তুলনায় এর দাম যথেষ্ট বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ রঙ, হাতে তৈরি পেইন্ট ফিনিশ, অস্ট্রেলিয়া-অনুপ্রাণিত কেবিন এবং একমাত্র গাড়ি হিসেবে উৎপাদনের কারণে এটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য তৈরি কোনও নিয়মিত মডেল নয়। বরং পোর্শের ইতিহাস এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সংস্থার দীর্ঘ সম্পর্ক উদ্যাপনের জন্য তৈরি একটি বিশেষ সংগ্রহযোগ্য গাড়ি হিসেবেই এর গুরুত্ব বেশি।
