প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ৭৬তম জন্মদিন ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা কর্মসূচি চলছে। একই সঙ্গে নজরে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাঁর বিশেষ সুরক্ষিত গাড়ির কনভয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের ক্ষেত্রে এমন গাড়ি ব্যবহার করা হয়, যেগুলিতে সাধারণ বিলাসবহুল গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় ব্যালিস্টিক ও বিস্ফোরণ প্রতিরোধী সুরক্ষা থাকে।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি-র ব্যবস্থাপনায় থাকা এই কনভয়ে একাধিক ধরনের সুরক্ষিত গাড়ি দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে মার্সিডিজ-মেব্যাক এস৬৫০ গার্ড, রেঞ্জ রোভার সেন্টিনেল, আর্মার্ড টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার, বিএমডব্লিউ ৭৬০এলআই হাই সিকিউরিটি এবং আর্মার্ড টয়োটা ফর্চুনার।
মার্সিডিজ-মেব্যাক এস৬৫০ গার্ড
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বহরের অন্যতম সুরক্ষিত গাড়ি হল মার্সিডিজ-মেব্যাক এস৬৫০ গার্ড। এর আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি টাকার বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাড়িটিতে রয়েছে ভিআর১০ স্তরের ব্যালিস্টিক সুরক্ষা, যা উচ্চ ক্ষমতার আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে বিস্ফোরণ প্রতিরোধী আর্মার, রান-ফ্ল্যাট টায়ার এবং সিল করা কেবিন।

কেবিনে আলাদা অক্সিজেন বা বায়ু সরবরাহ ব্যবস্থা থাকায় বাইরের পরিবেশে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও যাত্রীদের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
গাড়িটির শক্তি আসে ৬.০ লিটারের টুইন-টার্বো ভি১২ ইঞ্জিন থেকে। ইঞ্জিনটি ৫০০ হর্সপাওয়ারের বেশি শক্তি উৎপন্ন করে। সর্বোচ্চ গতি ইলেকট্রনিকভাবে ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
রেঞ্জ রোভার সেন্টিনেল
প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গাড়ি হল রেঞ্জ রোভার সেন্টিনেল। এতে রয়েছে ভিআর৮ স্তরের ব্যালিস্টিক সুরক্ষা। এই এসইউভি ৭.৬২ মিমি আর্মার-পিয়ার্সিং রাউন্ডের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত এবং প্রায় ১৫ কেজি টিএনটি-র সমতুল্য বিস্ফোরণ মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে গাড়িটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যে উল্লেখ করা হয়। উপর ও নিচ থেকে গ্রেনেড হামলার বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত সুরক্ষা রয়েছে। গাড়িটিতে রয়েছে অনবোর্ড ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম, স্বাধীন অক্সিজেন সরবরাহ এবং পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম। ৫.০ লিটারের সুপারচার্জড ভ৮ ইঞ্জিন থেকে গাড়িটি ৩৮০ হর্সপাওয়ার শক্তি পায়। ৪.৪ টনের বেশি ওজন হওয়া সত্ত্বেও ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছতে সময় লাগে ১০.৪ সেকেন্ড। সর্বোচ্চ গতি ১৯৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
আর্মার্ড টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বহরে আর্মার্ড টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার-ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৪.৫ লিটারের ভ৮ ডিজেল ইঞ্জিন থেকে প্রায় ২৬০ বিএইচপি শক্তি এবং ৬৫০ নিউটন-মিটার টর্ক পাওয়া যায়। ফোর-হুইল-ড্রাইভ ক্ষমতার পাশাপাশি গাড়িটিতে রয়েছে ব্যালিস্টিক আর্মার এবং বিস্ফোরণ প্রতিরোধী নির্মাণ। কেবিন এমনভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে যাতে রাসায়নিক হামলার মতো পরিস্থিতিতেও ভিতরের যাত্রীদের সুরক্ষা দেওয়া যায়। লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় এই গাড়িকে ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে।
বিএমডব্লিউ ৭৬০এলআই হাই সিকিউরিটি
প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের অন্যতম সুরক্ষিত সেডান হল বিএমডব্লিউ ৭৬০এলআই হাই সিকিউরিটি। এতে রয়েছে আর্মার্ড বডি প্যানেল, বুলেট-প্রতিরোধী কাচ এবং রান-ফ্ল্যাট টায়ার। এছাড়াও রয়েছে সেল্ফ-সিলিং ফুয়েল ট্যাঙ্ক এবং জরুরি অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, যা গ্যাস হামলার মতো পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে পারে। ৬.০ লিটারের ভি১২ ইঞ্জিন থেকে গাড়িটি ৫৪৪ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৭৫০ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ৬.২ সেকেন্ড। সর্বোচ্চ গতি ২১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ।
আর্মার্ড টয়োটা ফর্চুনার
প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে আর্মার্ড টয়োটা ফর্চুনার-কেও প্রায়ই এসকর্ট এবং কৌশলগত সহায়তা গাড়ি হিসেবে দেখা যায়। এই ধরনের গাড়ি এসপিজির নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বুলেটপ্রুফ সুরক্ষা দেওয়া ফর্চুনারকে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সফরেও দেখা গিয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের মতো উচ্চ-নিরাপত্তার কর্মসূচিতেও এই গাড়ির উপস্থিতি নজরে এসেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময়ও আর্মার্ড ফর্চুনারকে দেখা গিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের গাড়িগুলির ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য শুধু দ্রুত যাতায়াত নয়, বরং সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক হামলা, বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড এবং রাসায়নিক বা গ্যাস-ভিত্তিক হুমকির মতো বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সেই কারণেই এই গাড়িগুলিতে সাধারণ বিলাসবহুল মডেলের তুলনায় অতিরিক্ত আর্মার, সুরক্ষিত কেবিন এবং বিশেষ নিরাপত্তা প্রযুক্তি যুক্ত থাকে।
Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?
Read More: Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা
Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও
