মুম্বই: মনটেরি কার উইকের মঞ্চে নতুন সুপারকার ধারণা সামনে আনল ম্যাকলারেন। নাম ম্যাকলারেন ম্যাকএল ৬জিটি (McLaren MCL 6GT)। তবে শুধু নতুন নকশার জন্য নয়, দীর্ঘ ৩৪ বছর পর সত্যিকারের ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ফিরিয়ে আনার জন্যও এই গাড়িটি বিশেষ।
নতুন মডেলটি ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ব্রুস ম্যাকলারেনের অসম্পূর্ণ এম৬জিটি প্রকল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছে। মূল এম৬জিটি কখনও উৎপাদনে যায়নি। তবে ম্যাকলারেন জানিয়েছে, নতুন ম্যাকএল ৬জিটি ধারণাটির উৎপাদন সংস্করণ ২০২৮ সালে বাজারে আসতে পারে।
ভি৮ ইঞ্জিন ও কার্বন-ফাইবার কাঠামো
ম্যাকলারেন এখনও ম্যাকএল ৬জিটি-র সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে গাড়িটিতে থাকবে একটি ভি৮ অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন।
গাড়িটির কাঠামোও হালকা ও উচ্চক্ষমতার কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে। এতে কার্বন-ফাইবার মনোকক এবং কার্বন-ফাইবার বডি প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে গাড়িটির ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি উচ্চক্ষমতার ড্রাইভিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত দৃঢ়তাও পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Also Read | মেক ইন ইন্ডিয়ায় ফের বড় ঘোষণা! দেশীয় যুদ্ধ বিমান তৈরিতে রিলায়েন্সের সঙ্গে হাত মেলাল রোলস রয়েস
ব্রুস ম্যাকলারেনের এম৬জিটি থেকে অনুপ্রেরণা
ম্যাকএল ৬জিটি-র নকশায় স্পষ্টভাবে ব্রুস ম্যাকলারেনের মূল এম৬জিটির ছাপ রয়েছে। পুরনো গাড়িটির নিচু গঠন, লম্বা ছাদের নকশা এবং কেমব্যাক ধরনের পিছনের অংশকে আধুনিক রূপ দিয়েছে নতুন ধারণাটি।
গাড়িটির কেবিন অংশ যেন বডির সঙ্গে মিশে গিয়েছে। ছাদ পিছনের দিকে এগিয়ে গিয়ে ডেক ও ইঞ্জিন কভারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পুরনো এম৬জিটির বিশেষ টেল-ল্যাম্প নকশাকেও আধুনিক রূপ দেওয়া হয়েছে। নতুন গাড়িতে এই নকশা ‘রেসিং লুপ’ নামে একটি ডিজাইন উপাদানে পরিণত হয়েছে।
Also Read | বিমানে কার্বন নির্গমন কমাতে হাইড্রোজেন ইঞ্জিন! দেশে ইতিহাস গড়ছে TCS-রোলস রয়েস
গাড়িতে থাকছে ম্যাকলারেনের ঐতিহ্যের ছোঁয়া
ম্যাকলারেনের ইতিহাসও ম্যাকএল ৬জিটির নকশায় জায়গা পেয়েছে। ব্রুস ম্যাকলারেনের মূল এম৬জিটির রেজিস্ট্রেশন প্লেট থেকে অনুপ্রাণিত একটি সূক্ষ্ম গ্রাফিক ব্যবহার করা হয়েছে।
ইঞ্জিন বে-র ভিতরেও ব্রুস ম্যাকলারেনের স্বাক্ষর রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাকলারেনের প্রাথমিক সময়ের পরিচিত লোগো ‘স্পিডি কিউই’-কেও দেখা যাবে জ্বালানি ভরার ঢাকনায়। এই একই প্রতীক গাড়ির ভিতরেও রয়েছে। গিয়ার লিভারের উপরও ‘স্পিডি কিউই’ ব্যবহার করা হয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পুরনো দিনের ড্রাইভিং অনুভূতি
ম্যাকএল ৬জিটির কেবিনে ডিজিটাল ডিসপ্লের পাশাপাশি ফিজিক্যাল কন্ট্রোল এবং স্পর্শযোগ্য উপকরণ রাখা হয়েছে। নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে নর্লড অ্যালুমিনিয়াম সুইচগিয়ার এবং হাতে পরিচালিত গিয়ার লিভার। এর উদ্দেশ্য আধুনিক সুপারকারে চালকের সঙ্গে গাড়ির যান্ত্রিক সংযোগের অনুভূতি ফিরিয়ে আনা। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স।
Also Read | Keto Urbanova K9 বৈদ্যুতিক বাস ভারতের রাজপথে, ১৫০ কিমির বেশি রেঞ্জ
৩৪ বছর পর ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স
আধুনিক পারফরম্যান্স গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্সের ব্যবহার ক্রমশ বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ম্যাকলারেনের এই ধারণাটি চালকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ম্যাকলারেন জানিয়েছে, ম্যাকএল ৬জিটিতে হাইড্রলিক স্টিয়ারিং, ফিজিক্যাল কন্ট্রোল এবং ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ গাড়িটির নকশার অন্যতম লক্ষ্য হল আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে পুরনো দিনের অ্যানালগ ড্রাইভিং অনুভূতি ফিরিয়ে আনা। এই কারণেই ৩৪ বছর পর ম্যাকলারেনের গাড়িতে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের প্রত্যাবর্তন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
২০২৮ সালে উৎপাদন সংস্করণ আসতে পারে
ম্যাকএল ৬জিটি আপাতত একটি ধারণা বা প্রিভিউ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ম্যাকলারেন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে এর উৎপাদন সংস্করণ ২০২৮ সালে বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন মডেলটি ম্যাকলারেনের বর্তমান স্পোর্টস কার এবং সুপারকারগুলোর উপরে অবস্থান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর দাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে গাড়িটির সম্ভাব্য দাম ১০ লক্ষ মার্কিন ডলারের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে ম্যাকএল ৬জিটি ম্যাকলারেনের অন্যতম এক্সক্লুসিভ মডেল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স, হাইড্রলিক স্টিয়ারিং এবং ফিজিক্যাল কন্ট্রোলের মতো বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে গাড়িটি আধুনিক সুপারকারের জগতে চালকের সরাসরি ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাকে নতুন করে সামনে আনতে চলেছে।
