মুম্বই: ল্যাম্বরগিনি তাদের অন্যতম প্রতীক্ষিত সুপারকার রেভুয়েলতো এসভি-র (Lamborghini Revuelto SV) প্রথম টিজার প্রকাশ করেছে। নতুন এই উচ্চক্ষমতার মডেলটির বিশ্বজুড়ে আত্মপ্রকাশ হবে আজ ১৪ অগস্ট ২০২৬, মন্টেরি কার উইকের মঞ্চে। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে জার্মানির হকেনহাইমরিং সার্কিটে রেভুয়েলতো এসভি-র ক্যামোফ্লাজ করা পরীক্ষামূলক গাড়ির ছবি প্রকাশ করেছিল সংস্থা।
নতুন মডেল বাজারে এলে এটি ল্যাম্বরগিনির বিখ্যাত এসভি বা সুপার ভেলোচে পরিবারের সর্বশেষ সদস্য হবে। ‘সুপার ভেলোচে’ কথাটির অর্থ মোটামুটি ‘সুপার স্পিড’। এর আগে অ্যাভেন্টাডোর এসভি-র মতো গাড়ি এই নামকে আরও পরিচিত করে তুলেছিল।
আরও আক্রমণাত্মক ডিজাইন
স্ট্যান্ডার্ড রেভুয়েলতোর তুলনায় এসভি সংস্করণের বাহ্যিক ডিজাইনে পারফরম্যান্সের উপর আরও বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। সামনের অংশে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নতুন বাম্পারে কার্বন-ফাইবারের উপাদান যোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে আরও বড় এবং আক্রমণাত্মক ফ্রন্ট স্প্লিটার ও এয়ার ইনটেক। পিছনের অংশেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। গাড়িতে একটি বড় ফিক্সড রিয়ার উইং দেখা যেতে পারে। ট্র্যাক-ভিত্তিক পারফরম্যান্স বাড়াতে বিশেষভাবে তৈরি আন্ডারবডি এবং অ্যাক্টিভ ফ্ল্যাপও থাকতে পারে। এর সঙ্গে হালকা ওজনের কার্বন-ফাইবার চাকা এবং রেস-স্পেক ব্রেক ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এসভি সংস্করণের জন্য আলাদা রঙ এবং বিশেষ বাহ্যিক ডিজাইন উপাদানও থাকতে পারে।

কেবিনে রেসিং কারের ছাপ
ল্যাম্বরগিনির প্রকাশ করা প্রথম টিজারে রেভুয়েলতো এসভি-র কেবিনের কিছু অংশ দেখা গিয়েছে। সেখানে সাধারণ রেভুয়েলতোর তুলনায় অনেক বেশি রেসিং-কেন্দ্রিক পরিবেশের ইঙ্গিত রয়েছে। কেবিনে দেখা যাচ্ছে হেভি-ডিউটি রোল কেজ, উন্মুক্ত ধাতব অংশ এবং তুলনামূলকভাবে খালি পিছনের কেবিন। স্টিয়ারিং হুইলে থাকতে পারে লেদার এবং কার্বন-ফাইবারের সমন্বয়। এর সঙ্গে রয়েছে লাল সেন্টার মার্কার এবং কার্বন-ফাইবার শিফট প্যাডেল। বাকেট সিটও কার্বন-ফাইবারের তৈরি হতে পারে। চালকের ডিজিটাল ডিসপ্লের চারপাশেও ওজন কমানোর জন্য একই উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী কেবিনে প্রচুর আলকানতারা বা সোয়েড ব্যবহার করা হতে পারে। পাশাপাশি এসভি ব্যাজ এবং সংস্করণ-নির্দিষ্ট অন্যান্য ডিজাইন উপাদান থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পরিচিত ভি১২ ইঞ্জিন, সঙ্গে তিনটি বৈদ্যুতিক মোটর
রেভুয়েলতো এসভি-র সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে এর পাওয়ারট্রেন। গাড়িটিতে থাকবে পরিচিত ৬.৫-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড ভি১২ ইঞ্জিন। এর সঙ্গে থাকবে তিনটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং একটি কমপ্যাক্ট লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক। ল্যাম্বরগিনি ৮-স্পিড ডুয়াল-ক্লাচ ট্রান্সমিশনেও পরিবর্তন আনতে পারে। আরও দ্রুত গিয়ার পরিবর্তনের জন্য গিয়ারবক্সটি পুনরায় টিউন করার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, হাইব্রিড পাওয়ারট্রেনের সম্মিলিত শক্তিও স্ট্যান্ডার্ড রেভুয়েলতোর তুলনায় বাড়তে পারে।

স্ট্যান্ডার্ড রেভুয়েলতোর পারফরম্যান্সই যেখানে এতটা শক্তিশালী
রেভুয়েলতো এমনিতেই অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সুপারকার। স্ট্যান্ডার্ড মডেলের হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন থেকে পাওয়া যায় ১,০১৫ এইচপি শক্তি এবং ৭২৫ এনএম টর্ক। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটারের বেশি। মাত্র ২.৫ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পৌঁছতে পারে বলে দাবি করা হয়।
এসভি সংস্করণে শক্তি বাড়ার পাশাপাশি সাসপেনশন আরও স্পোর্টি করে টিউন করা এবং স্টিয়ারিং আরও শার্প করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ট্র্যাকে গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ ও কর্নারিং সক্ষমতা আরও উন্নত হতে পারে।
হকেনহাইমে ইতিমধ্যেই পারফরম্যান্সের পরীক্ষা
রেভুয়েলতো এসভি-র পরীক্ষামূলক গাড়ি সম্প্রতি জার্মানির হকেনহাইমরিং সার্কিটে পরীক্ষা করা হয়েছে। ল্যাম্বরগিনি জানিয়েছে, সেখানে তাদের গাড়ি ১ মিনিট ৪১.৬ সেকেন্ডের ল্যাপ টাইম করেছে। সংস্থার দাবি, কোনও উৎপাদন গাড়ির ক্ষেত্রে এই সার্কিটে এটিই এখনও পর্যন্ত দ্রুততম ল্যাপ। এই পরীক্ষার ফলাফল থেকেই বোঝা যাচ্ছে, রেভুয়েলতো এসভি-কে শুধু রাস্তার জন্য শক্তিশালী সুপারকার হিসেবে নয়, বরং ট্র্যাক পারফরম্যান্সের দিক থেকেও আরও ধারালো করে তোলা হচ্ছে।
আজই প্রকাশ পাবে পুরো ছবি
আজ, ১৪ অগস্ট ২০২৬ মন্টেরি কার উইকে বিশ্ব আত্মপ্রকাশের পর রেভুয়েলতো এসভি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নতুন এসভি সংস্করণে আরও আক্রমণাত্মক অ্যারোডায়নামিক্স, হালকা ওজনের উপাদান, রেসিং-কেন্দ্রিক কেবিন, উন্নত সাসপেনশন এবং আরও শক্তিশালী হাইব্রিড ভি১২ পাওয়ারট্রেন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ স্ট্যান্ডার্ড রেভুয়েলতোর চেয়েও বেশি আগ্রাসী এবং ট্র্যাক-কেন্দ্রিক চরিত্র নিয়েই ল্যাম্বরগিনি রেভুয়েলতো এসভি আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।
