Greaves Electric-এর বড় লক্ষ্য, ৬% থেকে ১০% ছাড়াবে ইলেকট্রিক টু-হুইলার শেয়ার

চেন্নাই: ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজার দ্রুত বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে গ্রিভস ইলেকট্রিক (Greaves Electric) মোবিলিটি লিমিটেড। গ্রিভস…

greaves-electric-targets-10-percent-electric-two-wheeler-market-share

চেন্নাই: ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজার দ্রুত বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে গ্রিভস ইলেকট্রিক (Greaves Electric) মোবিলিটি লিমিটেড। গ্রিভস কটনের এই সংস্থা বর্তমানে প্রায় ৬ শতাংশ ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারের দখলে রয়েছে। এবার শীঘ্রই সেই অংশীদারি ১০ শতাংশের বেশি করার লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি।

Advertisements

শুধু ভারতের বাজার নয়, বিদেশেও ইলেকট্রিক টু-হুইলার বিক্রি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে গ্রিভস ইলেকট্রিক। নেপাল, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো বাজারকে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

   

১০ শতাংশের বেশি বাজার দখলের লক্ষ্য

গ্রিভস ইলেকট্রিক মোবিলিটি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিকাশ সিং জানিয়েছেন, আগামী দিনে সংস্থার বাজার অংশীদারি দুই অঙ্কে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য নতুন মডেল আনা, ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক বাড়ানো এবং গ্রাহকদের জন্য অর্থায়নের সুবিধা আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছে সংস্থা। সিংয়ের মতে, ভারতে ইলেকট্রিক টু-হুইলারের ব্যবহার আগামী পাঁচ বছরে আরও দ্রুত বাড়বে। বর্তমানে দেশের মোট টু-হুইলার বাজারে ইলেকট্রিক মডেলের অংশীদারি প্রায় ১১ শতাংশ। তাঁর অনুমান, এটি অদূর ভবিষ্যতে ১৫ শতাংশ এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

মাসে বিক্রি ২ লক্ষ ইলেকট্রিক টু-হুইলার

ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজার বর্তমানে বছরে প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সিং। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রতি মাসে প্রায় ২,০০,০০০ ইউনিট ইলেকট্রিক টু-হুইলার বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের শেষ দিকে মাসিক বিক্রি ছিল প্রায় ১,২০,০০০ ইউনিট। অদূর ভবিষ্যতে মাসিক বিক্রি প্রায় ৩,০০,০০০ ইউনিটে পৌঁছতে পারে বলে আশা করছে সংস্থা। একই সময়ে ইলেকট্রিক টু-হুইলারের বাজার অংশীদারিও প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

Advertisements

জুনে ১০,১২৭টি গাড়ি বিক্রি

গ্রিভস ইলেকট্রিক মোবিলিটি জুন মাসে প্রায় ১০,১২৭টি গাড়ি বিক্রি করেছে। সংস্থার বর্তমান পণ্যের দাম ৬৫,০০০ টাকা থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা-র মধ্যে। গ্রিভস ইলেকট্রিকের পণ্য তালিকায় রয়েছে অ্যাম্পিয়ার নেক্সাস, অ্যাম্পিয়ার ম্যাগনাস জি ম্যাক্স, অ্যাম্পিয়ার রিও এবং কম গতির স্কুটার রিও ভিওয়াইবি। সংস্থার দাবি, তারা বর্তমানে বাজারের তুলনায় দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

বাজারের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে গ্রিভস

বিকাশ সিং জানিয়েছেন, গ্রিভস ইলেকট্রিকের বাজার অংশীদারি বর্তমানে প্রায় ৫.৬ শতাংশ। তবে ক্যারি-ফরোয়ার্ড অর্ডার এবং রেজিস্ট্রেশনের ব্যবধান বিবেচনা করলে এই অংশীদারি প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি। তিনি বলেন, ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজার যেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ হারে বাড়ছে, সেখানে গ্রিভস ইলেকট্রিকের বৃদ্ধি প্রায় ১২০ শতাংশ। এই বৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সংস্থা নতুন পণ্যের দিকেও নজর দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে প্রতি ত্রৈমাসিকে একটি করে গুরুত্বপূর্ণ নতুন পণ্য বাজারে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

৫৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা

ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রিভস ইলেকট্রিক নিকট ভবিষ্যতে প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। সংস্থাটি ব্যাটারি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের সরবরাহ ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। বিকাশ সিং জানিয়েছেন, প্রযুক্তি এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে সংস্থা আরও বেশি কাজ নিজেদের আওতায় নিয়ে আসতে চায়। ব্যাটারি প্রযুক্তি তার মধ্যে অন্যতম। এছাড়া প্রযুক্তির উন্নতি এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও নজর রয়েছে।

বিরল-মাটি নির্ভর নয় এমন মোটর তৈরি করছে গ্রিভস

বিরল-মাটি বা রেয়ার-আর্থ উপাদানের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় ইলেকট্রিক গাড়ি শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি বেড়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় গ্রিভস ইলেকট্রিক রেয়ার-আর্থ উপাদান ছাড়াই কাজ করতে পারে এমন একটি মোটর তৈরি করেছে। সংস্থার দাবি, এই নতুন মোটর আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে বাজারে আনা হতে পারে। ব্যাটারির ক্ষেত্রেও আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে একদিকে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার।

রানিপেট কারখানায় এখনও বড় উৎপাদন ক্ষমতা অব্যবহৃত

গ্রিভস ইলেকট্রিকের রানিপেট কারখানা বর্তমানে তার মোট উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করছে। এই কারখানায় বছরে ৫,০০,০০০ ইউনিট উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ আগামী কয়েক বছরে বাজারে বিক্রি বাড়লেও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অবিলম্বে নতুন কারখানা তৈরির প্রয়োজন হবে না বলেই মনে করছে সংস্থা। বর্তমান কারখানাতেই আরও বেশি উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

বিদেশের বাজারেও বড় পরিকল্পনা

ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ইলেকট্রিক টু-হুইলার রপ্তানি বাড়াতে চাইছে গ্রিভস ইলেকট্রিক। নেপাল, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কাকে সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দেখছে সংস্থা। ভারতে ইলেকট্রিক টু-হুইলারের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও বৈদ্যুতিক স্কুটারের চাহিদা বাড়ছে। ফলে রপ্তানিকে ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে গ্রিভস।

সব মিলিয়ে নতুন মডেল, উৎপাদন ক্ষমতার ব্যবহার, দেশীয় যন্ত্রাংশের উপর নির্ভরতা বাড়ানো, রেয়ার-আর্থ ছাড়া মোটর এবং বিদেশের বাজারে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইলেকট্রিক টু-হুইলার ব্যবসাকে আরও বড় করার পরিকল্পনা করেছে গ্রিভস ইলেকট্রিক। সংস্থার লক্ষ্য এখন স্পষ্ট, বর্তমান প্রায় ৬ শতাংশ বাজার অংশীদারি দ্রুত বাড়িয়ে ১০ শতাংশের বেশি করা।

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Advertisements