E20 Petrol ঘিরে বিতর্কে কমছে পেট্রোল গাড়ির চাহিদা? বাড়ছে EV ও হাইব্রিডের প্রতি আগ্রহ

E20 Petrol নিয়ে মাইলেজ উদ্বেগে অনেক ক্রেতা পেট্রোল গাড়ি কেনায় দ্বিধায়। ফলে EV ও হাইব্রিডের দিকে ঝুঁকছেন আরও বেশি মানুষ।

e20-petrol-controversy-ev-hybrid-car-demand-india

কলকাতা: ভারতে E20 Petrol (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি) নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্ক এবার গাড়ির বাজারেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। অনেক গাড়িচালকের ধারণা, E20 পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে। যদিও বিভিন্ন সার্ভিস সেন্টারের পরীক্ষায় এমন কোনও সরাসরি প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রমাণ মেলেনি, তবুও এই ধারণা ক্রেতাদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে নতুন করে বিশুদ্ধ পেট্রোলচালিত গাড়ির চাহিদা কিছুটা কমছে, অন্যদিকে বৈদ্যুতিক (EV) এবং হাইব্রিড গাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

Advertisements

Federation of Automobile Dealers Associations (FADA)-এর জাতীয় সহ-সভাপতি সাই গিরিধর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই পরিবর্তন এখন শোরুম এবং সার্ভিস সেন্টার, দুই জায়গাতেই স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আগে মাইলেজ সংক্রান্ত অভিযোগ এলে চালানোর ধরন, ট্রাফিক, টায়ারের চাপ, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা অতিরিক্ত ওজনের মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হতো। কিন্তু E20 নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলেছে।

   

তিনি জানান, এখন বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা সংস্থা তাদের ডিলারশিপ কর্মীদের জন্য Standard Operating Procedure (SOP) তৈরি করছে, যাতে গ্রাহকদের E20 সম্পর্কিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া যায়।

গিরিধরের মতে, একটি বড় সার্ভিস নেটওয়ার্ক প্রায় ১,৫০০টি গাড়ি পরীক্ষা করে E20 পেট্রোলের কারণে সরাসরি কোনও সমস্যা খুঁজে পায়নি। তবুও অনেক গাড়ির মালিক বিশ্বাস করছেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণেই তাদের গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা কমেছে। একই সঙ্গে নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন এমন অনেক ক্রেতাও এখন প্রচলিত পেট্রোল গাড়ি কেনার আগে দু’বার ভাবছেন।

Advertisements

বর্তমানে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয় বা রানিং কস্ট ক্রেতাদের অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই অনেকে এমন গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন, যেগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি অনিশ্চয়তার প্রভাব কম বহন করবে। এই প্রবণতা বিশেষ করে বিশুদ্ধ পেট্রোলচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে বেশি দেখা যাচ্ছে। উত্তর ভারতে এই উদ্বেগ দক্ষিণ ভারতের তুলনায় কিছুটা বেশি বলেও জানিয়েছেন গিরিধর।

তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, E20-কে সব গাড়ির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। আধুনিক ইঞ্জিনগুলো উচ্চ অকটেন জ্বালানির জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। আগে যেখানে পেট্রোলের অকটেন রেটিং ছিল প্রায় ৯৩, বর্তমানে তা প্রায় ৯৭-এ পৌঁছেছে। এছাড়া তিনি বলেন, অনেক সময় জ্বালানি সংরক্ষণের পদ্ধতি, ট্যাঙ্কে পর্যাপ্ত জ্বালানি না রাখা অথবা দূষিত জ্বালানি ব্যবহারের মতো কারণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার সঙ্গে ইথানল মিশ্রণের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

গিরিধরের মতে, ভবিষ্যতের গাড়ির বাজার শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর নির্ভর করবে না। বরং EV, মাইল্ড হাইব্রিড, স্ট্রং হাইব্রিড, প্লাগ-ইন হাইব্রিড, রেঞ্জ-এক্সটেন্ডার প্রযুক্তি এবং হাইড্রোজেন ফুয়েল-সেল ভিত্তিক যানবাহনের সমন্বয়ই আগামী দিনের বাজার গড়ে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরিবেশ দূষণ কমানোর লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে বিকল্প জ্বালানিচালিত গাড়ির চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভারতে এখনও যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে EV-এর অংশ তুলনামূলকভাবে কম হলেও প্রযুক্তির উন্নতি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যাটারির দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে এই বাজার দ্রুত প্রসারিত হবে।

FADA-এর অনুমান, ব্যাটারির খরচ কমে গেলে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও প্রচলিত গাড়ির দামের ব্যবধানও কমে আসবে। সরকারি প্রণোদনা, স্ক্র্যাপেজ নীতি এবং নতুন মডেলের আগমনের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিচালিত গাড়ির বাজার অংশীদারিত্ব প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন গিরিধর।

Advertisements