নয়াদিল্লি: বাজাজ পালসার এনএস২০০ (Pulsar NS200) দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের স্পোর্টি স্ট্রিট নেকেড বাইকের বাজারে পরিচিত নাম। বাইকটির পারফরম্যান্স, হ্যান্ডলিং এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দাম এখনও এটিকে আকর্ষণীয় করে রেখেছে। তবে দীর্ঘ সময় চালিয়ে দেখার পর বাইকটির কিছু সুবিধার পাশাপাশি কয়েকটি সীমাবদ্ধতাও সামনে আসে। যাঁরা নতুন করে বাজাজ পালসার এনএস২০০ কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এই বাইকের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক জেনে নেওয়া যাক।
১. শক্তিশালী ইঞ্জিন, হাইওয়েতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
পালসার এনএস২০০-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর ১৯৯ সিসি ইঞ্জিন। কেটিএমের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ২৪.৫ পিএস শক্তি এবং ১৮.৭৪ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। তবে ইঞ্জিনের বেশিরভাগ শক্তি পাওয়া যায় তুলনামূলক বেশি আরপিএমে। ফলে কম গতিতে বা লো এবং মিড-রেঞ্জে বাইক চালানোর সময় গতি ধরে রাখতে গিয়ারবক্স বেশি ব্যবহার করতে হয়। অন্যদিকে হাইওয়েতে এই ইঞ্জিনের আসল ক্ষমতা বোঝা যায়। লিকুইড কুলিংয়ের কারণে ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তিন অঙ্কের গতিতেও বাইকটি অনায়াসে ক্রুজ করতে পারে।
Also Read | লাদাখে যুদ্ধযানের জন্য Indian Army কেন XWG ডিজেলের দিকে ঝুঁকছে?
২. হ্যান্ডলিং দুর্দান্ত, তবে ব্রেকিংয়ে আরও বেশি কামড় প্রয়োজন
পালসার এনএস২০০ চালানোর অন্যতম আনন্দ হল এর স্পোর্টি হ্যান্ডলিং। হালকা চেসিস, ভালোভাবে টিউন করা সাসপেনশন এবং নির্ভুল স্টিয়ারিংয়ের কারণে বাঁক নেওয়ার সময় বাইকটি যথেষ্ট চটপটে থাকে। সামনে রয়েছে ইউএসডি ফর্ক এবং পিছনে প্রিলোড-অ্যাডজাস্টেবল মনোশক। ভারতীয় রাস্তার কথা মাথায় রেখে সাসপেনশন সেটআপ করা হয়েছে। পিছনে পিলিয়ন থাকলেও এটি যথেষ্ট ভালোভাবে কাজ করে।

ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে ৩০০ মিলিমিটার এবং পিছনে ২৩০ মিলিমিটারের ডিস্ক রয়েছে। ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে পাওয়া যায়।
তবে জোরে ব্রেক করার সময় সামনের অংশ কিছুটা অস্থির মনে হতে পারে। ফলে ব্রেকিংয়ে যে আত্মবিশ্বাস পাওয়া উচিত, সেখানে সামান্য ঘাটতি রয়েছে।
৩. স্পোর্টি ডিজাইন এখনও আকর্ষণীয়, তবে বয়সের ছাপ রয়েছে
পালসার এনএস২০০ এখনও তার আগ্রাসী এবং স্পোর্টি নেকেড-বাইক ডিজাইন ধরে রেখেছে। শার্প ট্যাঙ্ক শ্যাউড এবং নতুন অল-এলইডি সেটআপ বাইকটিকে আগের তুলনায় আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পালসার ভক্তদের কাছে এর পরিচিত ডিজাইন নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে। তবে যাঁরা আধুনিক এবং সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের বাইক পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এনএস২০০-এর ডিজাইন কিছুটা পুরনো মনে হতে পারে।
বাইকটি চারটি রঙে পাওয়া যায়:
• ককটেল ওয়াইন রেড হোয়াইট
• গ্লসি এবনি ব্ল্যাক
• মেটালিক পার্ল হোয়াইট
• পিউটার গ্রে ব্লু
Also Read |
৪১২ আগস্ট আসছে নতুন Bajaj Pulsar! ক্লাসিক লাইন-আপে বড় আপডেটের ইঙ্গিত. ফিচার যথেষ্ট, তবে একটি জায়গায় পুরনো কনসোলই বেশি ভালো লাগত
পালসার এনএস২০০-তে রয়েছে আগ্রাসী এলইডি হেডলাইটের সঙ্গে ডিআরএল, ব্লুটুথ-সক্ষম এলসিডি কনসোল এবং টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন।
সেফটির জন্য ডুয়াল-চ্যানেল এবিএসও রয়েছে। কনসোলে গিয়ার পজিশন, ডিস্ট্যান্স টু এম্পটি, রিয়েল-টাইম মাইলেজ এবং গড় ফুয়েল ইকোনমির মতো প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা যায়। অর্থাৎ দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি নেই।
তবে পুরনো প্রজন্মের অ্যানালগ-ডিজিটাল কনসোলের অ্যানালগ ট্যাকোমিটার অনেক বেশি স্পোর্টি অনুভূতি দিত। নতুন কনসোল কার্যকর হলেও সেই চরিত্রটি কিছুটা কমেছে।
৫. চালকের জন্য আরামদায়ক, পিলিয়নের ক্ষেত্রে ততটা নয়
৮০৭ মিলিমিটার সিট হাইট হওয়ায় তুলনামূলক কম উচ্চতার চালকরাও সহজে পালসার এনএস২০০ সামলাতে পারবেন। স্প্লিট সিট সেটআপটি চালক এবং পিলিয়ন দুজনের জন্যই কিছুটা শক্ত। তবে দীর্ঘ সময় বাইক চালানোর ক্ষেত্রেও চালকের সিট যথেষ্ট আরামদায়ক থাকে। পিলিয়নের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। পিলিয়ন ফুটপেগের অবস্থান এবং শক্ত সিটের কারণে দীর্ঘ যাত্রায় পিছনের যাত্রীর আরাম কমে যায়।
উঁচু ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার এবং রিয়ার-সেট ফুটপেগের কারণে রাইডিং পজিশন কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে থাকে। তবে এতে চালকের কবজি বা পিঠে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। যাঁদের কাছে তুলনামূলক কম দামে ভালো পারফরম্যান্স সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের জন্য বাজাজ পালসার এনএস২০০ এখনও একটি শক্তিশালী বিকল্প।
১৯৯ সিসির শক্তিশালী ইঞ্জিন, স্পোর্টি হ্যান্ডলিং এবং হাইওয়ে পারফরম্যান্স বাইকটির বড় প্লাস পয়েন্ট। অন্যদিকে ব্রেকিংয়ের অনুভূতি এবং পিলিয়নের আরাম আরও ভালো হতে পারত।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর দাম। একই ইঞ্জিন পরিবারের অস্ট্রিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী কেটিএম ২০০ ডিউক-এর তুলনায় এটি যথেষ্ট সস্তা এবং ছোট ইঞ্জিনের ইয়ামাহা এমটি-১৫ ভি২-এর তুলনাতেও শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেয়। তাই কম বাজেটে স্পোর্টি পারফরম্যান্স চাইলে পালসার এনএস২০০ এখনও যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত পছন্দ।
