গঙ্গা হোক বা পদ্মাপাড় বামেরা রয়েছে শুধুই শূন্যে

ঢাকা: বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বামপন্থীরা একেবারে কোনঠাসা (Bangladesh election)। বাংলা হোক বা বাংলাদেশ বামেদের ঝুলিতে এখন কেবলই শূন্য। বিএনপি-মিত্র জোট ২১২ আসন জিতে…

left-parties-zero-seats-bangladesh-election-2026

ঢাকা: বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বামপন্থীরা একেবারে কোনঠাসা (Bangladesh election)। বাংলা হোক বা বাংলাদেশ বামেদের ঝুলিতে এখন কেবলই শূন্য। বিএনপি-মিত্র জোট ২১২ আসন জিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, জামায়াতে ইসলামী-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭ আসন। কিন্তু বামপন্থী দলগুলো যেমন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বিএসডি), কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সোশ্যালিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ইত্যাদি কোনোটিই একটি আসনও জিততে পারেনি।

Advertisements

এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে বামপন্থীদের ক্রমাগত হ্রাসমান প্রভাবের আরেক প্রমাণ।নির্বাচনের পর বিশ্লেষকরা বলছেন, বামপন্থীদের এই শূন্যতা শুধু এই নির্বাচনের নয় এটি দীর্ঘদিনের প্রবণতা। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বামপন্থীরা একসময় শক্তিশালী ছিলেন, কিন্তু অভ্যন্তরীণ বিভেদ, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট-বিচ্ছেদ এবং ধর্মীয় রাজনীতির উত্থানে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

   

আরও দেখুন: সল্টলেক সেক্টর ফাইভের একটি বহুতলে ভয়াবহ আগুন! ঘটনাস্থলে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন

এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় বামপন্থীরা সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। অনেক বাম দল নির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারেনি, যারা দিয়েছে তারাও ভোটের বাজারে অদৃশ্য হয়ে গেছে।এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে বরিশাল-৫ আসনের বিএসডি প্রার্থী ডা. মণীষা চক্রবর্তীর প্রচার। মণীষা একজন প্রাক্তন সরকারি চিকিৎসক, যিনি চাকরি ছেড়ে সামাজিক কর্মী হয়েছেন।

তিনি নির্বাচনী প্রচারে গ্রামীণ মানুষের মধ্যে মাটির ব্যাঙ্ক বিতরণ করে ছোট ছোট অনুদান সংগ্রহ করেছেন, যাতে ‘কালো টাকার’ রাজনীতি ভাঙা যায়। কিন্তু সবচেয়ে বিতর্কিত হয়েছে তাঁর গরুর মাংস বিতরণের ঘটনা। অতীতে ঈদুল আজহায় ৫টি গরু জবাই করে দরিদ্রদের মধ্যে মাংস বিতরণ করেছেন বলে খবর ছড়িয়েছে, এবারও নির্বাচনী প্রচারে এমন কিছু করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।

Advertisements

অনেকে বলছেন, এটি হিন্দু ভোটারদের আকর্ষণ করার চেষ্টা ছিল, কিন্তু ফল উল্টো হয়েছে। মণীষা চক্রবর্তী পরাজিত হয়েছেন, এবং তাঁর এই ‘ফ্রি বিফ’ কৌশল ভোটে কোনো কাজে আসেনি।এই ঘটনা থেকে একটি বিতর্কিত মন্তব্য উঠে এসেছে শুধু হিন্দুরাই বামপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ থাকেন। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা অংশ ঐতিহ্যগতভাবে বাম বা আওয়ামী লীগের সমর্থক।

কিন্তু মুসলিম ভোটারদের মধ্যে বামপন্থী আদর্শের আকর্ষণ কমে গেছে। ধর্মীয় রাজনীতি, জামায়াতের উত্থান এবং বিএনপির জাতীয়তাবাদী অবস্থানে বামেরা কোণঠাসা। অনেক হিন্দু ভোটার এবার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন, যাতে জামায়াতের উত্থান রোধ হয়। ফলে বামপন্থীদের ভোটব্যাঙ্ক আরও সঙ্কুচিত হয়েছে।

Advertisements