ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের (Hindu teachers)আটজন হিন্দু শিক্ষক সম্প্রতি খুনের হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ। ‘সর্বহারা পার্টির’ সদস্য পরিচয় দিয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে শিক্ষকদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে গত কয়েক দিনের মধ্যে। শিক্ষকেরা আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছেন।সহযোগী অধ্যাপক পরেশ কুমার পালসহ দেবাশীষ রায়, নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস, প্রদীপ কুমার সাহাসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক এই হুমকির শিকার হয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে দুপুরের মধ্যেই একই ধরনের ফোন এসেছে।
আরও দেখুন: চট্টগ্রামে সেনা মহড়ায় বিস্ফোরন! আচমকাই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে ফাটল চিন থেকে কেনা টাইপ-৫৯ সিরিজ ট্যাঙ্ক
অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদার অঙ্ক নির্ধারণ করে দেওয়া হয় (Hindu teachers)এবং সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। টাকা না দিলে নির্মম পরিণতির কথা বলা হয়। কলেজটিতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৫৮। এর মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকেরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন চাঁদাবাজির ঘটনা নয় বলে অনেকে মনে করছেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু শিক্ষক ও পেশাজীবীদের ওপর চাপ ও হুমকির অভিযোগ সময়ে সময়ে উঠে আসে।
কিছু ক্ষেত্রে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা, হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার কথা শোনা যায়। (Hindu teachers)শিক্ষকরা সমাজের সম্মানিত অংশ। তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের গড়ে তোলেন। তাঁদের এভাবে হুমকির মুখে ফেলা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এখন দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা জরুরি। চাঁদাবাজি ও হুমকি যেকোনো নাগরিকের জন্য অপরাধ।
ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে লক্ষ্য করা হলে তা আরও গুরুতর। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষকদের সুরক্ষা দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় হতে হবে(Hindu teachers)।সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়। ছাত্রছাত্রীরাও প্রভাবিত হন। হিন্দু শিক্ষকদের একের পর এক হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া দরকার। কোনো পরিকল্পিত উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
