ঢাকায় সনাতনীদের গরুর মাংস খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে ইলেকট্রনিক সাইনবোর্ড

ধারা: ঢাকার মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগ, ৬০ ফিট এলাকায় একটি মুসলিম মালিকানাধীন (Dhaka)দোকানের সামনে ইলেকট্রনিক সাইনবোর্ডে প্রকাশ্যে উস্কানিমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। বার্তায় লেখা “বাংলাদেশের সব সনাতনী…

dhaka-eid-signboard-controversy-mirpur-hindu-community

ধারা: ঢাকার মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগ, ৬০ ফিট এলাকায় একটি মুসলিম মালিকানাধীন (Dhaka)দোকানের সামনে ইলেকট্রনিক সাইনবোর্ডে প্রকাশ্যে উস্কানিমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। বার্তায় লেখা “বাংলাদেশের সব সনাতনী হিন্দুদের কোরবানি ঈদে গরুর মাংস খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে”। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, এই সাইনবোর্ডটি একটি হিন্দু মালিকানাধীন দোকানের ঠিক সামনেই স্থাপন করা হয়েছে।

Advertisements

   

এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি শুধু সাধারণ উস্কানি নয়, বরং ধর্মীয় বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রকাশ্য প্রদর্শন। ঈদের সময় এমন বার্তা দেওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত করেছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাইনবোর্ডটি ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে হওয়ায় আশপাশের অনেকেই দেখতে পেয়েছেন।

আরও দেখুনঃসকালে কাকলি! ভর সন্ধেতে শুভেন্দু শরণে গিয়ে জল্পনা বাড়ালেন ঋতব্রত-সন্দীপন

Advertisements

অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, চাকরি থেকে বরখাস্ত, মন্দিরে হামলা এবং ‘ব্লাসফেমি’র অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনা বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সামান্য অভিযোগে অনেক হিন্দু যুবককে হয়রানি ও জেলে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে এমন উস্কানিমূলক ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়াও বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর থেকে বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠনের তরফ থেকে ক্রমাগত ভারত এবং হিন্দু বিরোধী প্রতিবাদের চিত্র সামনে এসেছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন এই ধরনের ঘটনার নিন্দা করে প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে। তাঁরা বলছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে এমন প্রকাশ্য উস্কানি দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের উস্কানি বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে কোরবানি ঈদের সময় এমন বার্তা দেওয়া আরও সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।

Advertisements