কোরবানি দিতে না চেয়ে খুন হওয়া সূর্যের খুনি আসাদকে গুলি করে মারল যোগী পুলিশ

গাজিয়াবাদ: উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে ফের যোগী দাওয়াই। (Police Encounter)একাদশ শ্রেণির ছাত্র সূর্য প্রতাপ চৌহান হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আসাদ পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। রবিবার (৩১ মে)…

asad-police-encounter

গাজিয়াবাদ: উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে ফের যোগী দাওয়াই। (Police Encounter)একাদশ শ্রেণির ছাত্র সূর্য প্রতাপ চৌহান হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আসাদ পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) ভোরে গাজিয়াবাদের খোডা থানা এলাকায় এই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আসাদ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

Advertisements

জানা গেছে, গত ২৮ মে খোডা কলোনিতে ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস ঘটনার জেরে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিহত সূর্য প্রতাপ চৌহান স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তার পরিচিত আসাদ বকরি ঈদ উপলক্ষে একটি ছাগল কোরবানি দেখার জন্য তাকে বারবার অনুরোধ করে। তবে সূর্য সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

   

আরও দেখুনঃ সোনারপুরে হামলার নেপথ্যে কারা? লাভলির অনুগামীদের নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিতর্কের জেরে আসাদ ও তার কয়েকজন সহযোগী সূর্যের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন ২৯ মে দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সূর্যের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত আসাদ আত্মগোপনে চলে যায়। তাকে ধরতে উত্তর প্রদেশ পুলিশ একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে অভিযান শুরু করে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালালেও প্রথম কয়েকদিন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়।

Advertisements

রবিবার ভোরে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে আসাদ খোডা থানা এলাকার একটি স্থানে তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসবে। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে টাকা সংগ্রহ করে সে অন্যত্র পালানোর পরিকল্পনা করছিল। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত এলাকায় ব্যারিকেড বসিয়ে নজরদারি শুরু করে। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে করে আসাদ ও তার এক সহযোগী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়।

পুলিশের দাবি, আত্মসমর্পণ না করে আসাদ ও তার সঙ্গী পুলিশের ওপর গুলি চালায়। এর জবাবে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির একপর্যায়ে আসাদ গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে এই বন্দুকযুদ্ধের সময় একজন পুলিশ কনস্টেবলও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে এবং তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূর্য প্রতাপ চৌহানের মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। নিহত ছাত্রের পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে আসাদের মৃত্যুর পরও মামলার তদন্ত চলবে এবং তার সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজিয়াবাদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করলেও প্রশাসন শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সূর্য হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী এনকাউন্টার ঘিরে উত্তর প্রদেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisements