ফের মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিদেশি দেশ প্রধানরা। (Modi energy)অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের জ্বালানি খাতে সাফল্যের প্রশংসা করে এক অসাধারণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর শাসনামলে ভারতে যত মানুষকে জ্বালানি বা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে, তা মানব ইতিহাসের কোনো দশক, কোনো অঞ্চল বা কোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি।”
এই মন্তব্যটি শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতের বিদ্যুতায়ন অভিযানের বিশাল সাফল্যকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে।আলবানিজের এই কথা ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের গভীরতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতিফলন। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইউরেনিয়াম রফতানি চুক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ২০ বছর ধরে NTPC তে চাকরি! ছত্তিশগড়ে ভুয়ো নথি সহ গ্রেফতার বাংলাদেশি আতিক হুসেইন
সেই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশংসা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। (Modi energy)তিনি মোদীর নেতৃত্বে ভারতের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণকে মানব ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন।ভারতে বিদ্যুতায়নের গল্প সত্যিই চমকপ্রদ। ২০১৪ সালের আগে দেশের অনেক গ্রাম ও দরিদ্র পরিবার অন্ধকারে থাকত। ঘন ঘন লোডশেডিং, অপর্যাপ্ত সরবরাহ এবং দূরবর্তী এলাকায় সংযোগের অভাব ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ‘সৌভাগ্য’ প্রকল্প চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। লক্ষ লক্ষ পরিবারকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। গ্রামীণ এলাকায় দৈনিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় কয়েক ঘণ্টা থেকে বেড়ে প্রায় ২২-২৩ ঘণ্টায় পৌঁছেছে। আজ ভারত শুধু বিদ্যুৎ ঘাটতি কাটিয়ে উঠেছে তাই নয়, বরং শক্তি উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে।সৌরশক্তির ক্ষেত্রেও অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো।
এক দশকেরও কম সময়ে সৌর ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়েছে। পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনায় লক্ষ লক্ষ পরিবার ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয়ও করছে। বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ ও পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই সব মিলিয়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনে আলো এসেছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেড়েছে, ছোট ব্যবসা ও কৃষিকাজে নতুন গতি এসেছে।
আলবানিজের মন্তব্যকে অনেকেই ‘অসাধারণ’ বলেই বর্ণনা করছেন। (Modi energy)কারণ এটি শুধু সংখ্যার খেলা নয়। এটি দেখায় যে কীভাবে একটি উন্নয়নশীল দেশ স্বল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে মৌলিক সুবিধার আওতায় আনতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্যুতায়ন প্রক্রিয়া দশক দশক লেগেছে। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যভিত্তিক নীতির সমন্বয়ে তা অনেক দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে।
এই স্বীকৃতি ভারতের জন্য গর্বের। একইসঙ্গে এটি ভবিষ্যতের জন্যও অনুপ্রেরণা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে চলা, শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এই লক্ষ্যগুলো এখন আরও জোরদার হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে ভারত তার পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যে আরও দ্রুত এগোতে পারবে।
