ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে ফের ফাঁস হল দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তার ফাঁকফোকর।(Atik Hossain) স্থানীয় পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন ৪২ বছর বয়সী আতিক হুসেইন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন এবং এর মধ্যে উনিশ বছর ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এনটিপিসি সিপতে কাজ করেছেন।
তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ভুয়ো ভারতীয় পাসপোর্ট, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাতি শংসাপত্রসহ একগুচ্ছ জাল নথি।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আতিক হুসাইন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।(Atik Hossain) তিনি ২০০৫ সালে অবৈধভাবে ভারতে আসেন। প্রথমে কিছুদিন তামিলনাড়ুতে থাকার পর ২০০৭ সালে বিলাসপুরে চলে আসেন।
আরও দেখুনঃ কমিশনের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার আদালতে! জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের PIL
সেখানে তিনি বিইকো লিফটস প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি সংস্থার মাধ্যমে এনটিপিসি সিপত সুপার থার্মাল পাওয়ার স্টেশনে লিফট রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পান। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কাজ করে গেছেন, অথচ কেউ তার আসল পরিচয় ধরতে পারেনি।তার ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ যেসব নথি উদ্ধার করেছে, তা দেখে সবাই অবাক। ভুয়ো ভারতীয় পাসপোর্ট ছাড়াও আধার, প্যান, ভোটার পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বাসস্থান শংসাপত্র, জাতি শংসাপত্র এবং এমনকি নবম শ্রেণির মার্কশিটও পাওয়া গেছে।
এই সব নথি দিয়ে তিনি স্থানীয়ভাবে নিজেকে ভারতীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। (Atik Hossain)এমনকি ভোটার কার্ড দিয়ে ভোটও দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিলাসপুরের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ রজনেশ সিং বলেছেন, আতিক তৃতীয় পক্ষের ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং রুটিন যাচাইয়েও তার পরিচয় ধরা পড়েনি।এনটিপিসি সিপত শুধু একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়। এটি দেশের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, যা একাধিক রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
এমন একটি সংবেদনশীল স্থাপনায় এতদিন ধরে একজন বিদেশি নাগরিক কাজ করে যাওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে। পুলিশ বলছে, এখন তদন্ত চলছে কীভাবে তিনি এত সহজে এসব জাল নথি তৈরি করতে পেরেছিলেন এবং কে কে তাকে সাহায্য করেছিল। রায়পুরের হোল্ডিং সেন্টারে তাকে রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।এই ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির অবৈধ অবস্থানের গল্প নয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ঠিকাদারি সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই কতটা কঠোর হওয়া উচিত, তা নিয়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এ ধরনের আরও সন্দেহভাজনদের খোঁজ চালাচ্ছে।
কয়েক সপ্তাহ আগেও একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছিল, কিন্তু আতিক তখন পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তার অবস্থান চিহ্নিত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। (Atik Hossain)স্থানীয় মানুষের মধ্যেও এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই অবাক হয়ে বলছেন, কীভাবে এত বছর ধরে কেউ তার সম্পর্কে সন্দেহ করেনি। একদিকে যেমন অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জাল নথির নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও কঠোর করার দাবিও উঠেছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
