India Theatre Command: গত কয়েক বছরে ভারতীয় সেনাবাহিনী অত্যন্ত বিধ্বংসী সব অস্ত্রের এক বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে। ব্রহ্মোস (BrahMos) ও আকাশের (Akash)-এর মতো অস্ত্র ব্যবস্থাগুলো এখন যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। ভারতের সামরিক সক্ষমতার তীব্র প্রভাব ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষ করা পাকিস্তান এখন ভারতের ‘থিয়েটার কমান্ড’ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পাকিস্তানের সংবাদপত্র ‘ডন’-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের এই থিয়েটার কমান্ড পরিকল্পনাটি সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
‘ডন’ লিখেছে যে, রাজনৈতিক লক্ষ্য ও কঠোর সময়সীমার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করা হলে তা সেনাবাহিনীর পেশাগত দক্ষতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং তিন বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। এতে বলা হয়েছে যে, এর প্রভাব ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) ওপর সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হলেও, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীতে অত্যাবশ্যকীয় সম্পদের তীব্র ঘাটতি ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির এক বিপজ্জনক দুর্বলতাকেও উন্মোচিত করে।
‘থিয়েটার কমান্ড’ নিয়ে পাকিস্তানে কী আলোচনা হচ্ছে?
‘ডন’ (Dawn) পত্রিকা জানিয়েছে যে, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ লোকসভায় ‘আন্তঃ-সেবা সংস্থা (কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা) আইন, ২০২৩’ উত্থাপন করা হয়েছিল। বর্ষাকালীন অধিবেশনে এটি অনুমোদন লাভ করে এবং ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি এতে স্বাক্ষর করেন। এই আইনটি ২০২৪ সালের ১০ মে কার্যকর হয় এবং এর বিধিমালা ২০২৫ সালের ২৭ মে জারি করা হয়, যার মাধ্যমে যৌথ সামরিক কাঠামোর ওপর সরকারের ব্যাপক ক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান তিনটি থিয়েটার কমান্ড – নর্দার্ন, ওয়েস্টার্ন এবং মেরিটাইম – গঠনের বিষয়ে সুপারিশ পেশ করেছিলেন। পাশাপাশি, সিডিএস-এর বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পূরণের তাগিদে মে মাসের শেষ নাগাদ একটি ‘জয়েন্ট অপারেশনস সেন্টার’ চালু করার প্রস্তুতিও চলছিল। ‘ডন’ আরও লিখেছে যে, রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া পেশাগত বিবেচ্য বিষয় ও সামরিক-নির্দিষ্ট নীতিগুলোকে উপেক্ষা করে; ফলে একটি সম্ভাব্য লাভজনক সংস্কার উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জুয়ায় পরিণত হচ্ছে।
বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর জন্য নতুন অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা
‘ডন’ (Dawn)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল নাগাদ ভারতীয় বিমানবাহিনী মাত্র ২৯টি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন পরিচালনা করবে – যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন সংখ্যা; অথচ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মিগ-২১ (MiG-21) বিমানগুলো পুরোপুরি অবসরে যাওয়ার আগে এই সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৩১ থেকে ৩২-এর ঘরে। এটি অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। তবে একথা সত্য হলেও এমন নয় যে ভারত হাত গুটিয়ে বসে আছে; আগামী বছরের মধ্যেই ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে ফ্রান্সের সাথে চুক্তি চূড়ান্ত হতে চলেছে এবং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘এএমসিএ’ (AMCA)-র কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
তাছাড়া, নৌবাহিনীর সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজের সংখ্যা কমেছে এবং তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরীর প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। এটাও সত্য যে, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর আশঙ্কা – ‘থিয়েটার কমান্ড’ গঠনের ফলে তাদের সম্পদের পরিমাণ আরও কমে যেতে পারে। তবে ভারত সরকার দ্রুত নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার বৃদ্ধির জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে পাকিস্তানকে আবারও ব্রহ্মস (BrahMos) ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের মুখোমুখি হতে হয়।
