নয়াদিল্লি: সাম্প্রতিক এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেশের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) অন্দরমহলের ছবি সামনে আসার পর থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, ফর্ম ৬ (Form 6) সংক্রান্ত আইনি পরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় প্রযুক্তিকরণ (Centralisation) নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের অন্তত ১৪ বার আপত্তির রেকর্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে দেশের এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যপদ্ধতি নিয়ে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মুখোমুখি হওয়া প্রশ্নগুলি
আইনি পদ্ধতির লঙ্ঘন: সংবিধানে সিইসি এবং অন্য দুই কমিশনারের পদমর্যাদা সমান হলেও, ইসিআইনেট (ECINet) ও ফর্ম ৬-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই কমিশনারের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও কীভাবে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো?
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অবমূল্যায়ন: দুই কমিশনার যদি নির্দিষ্ট কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানান, তবে সেই মতপার্থক্যকে কোন আইনি ভিত্তিতে পাশ কাটানো হলো, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি উঠছে।
দুই নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্নগুলি উঠছে
বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সিইসি-র একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেবল ফাইলবন্দি নোট বা আপত্তি রেকর্ড করাই যথেষ্ট নয়; দুই কমিশনারের কার্যপদ্ধতি নিয়েও বেশ কিছু বড় সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে৷
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দ্বারস্থ হওয়া কেন?
নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা (অনুচ্ছেদ ৩২৪)। তা সত্ত্বেও কর্মবণ্টন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে দুই কমিশনার কেন দেশের ক্যাবিনেট সেক্রেটারি বা মন্ত্রিপরিষদ সচিব টি ভি সোমনাথনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন? এই পদক্ষেপ কি সংস্থার স্বাধিকারের পরিপন্থী নয়?
রাষ্ট্রপতির কাছে বা পদত্যাগের পথে কেন হাঁটেননি?
যদি অভ্যন্তরীণ অচলাবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যেখানে কমিশনাররা মনে করেছেন আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে, তবে তারা রাষ্ট্রপতি (যিনি তাঁদের নিয়োগকর্তা)-র দ্বারস্থ হননি কেন? কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক নীতিভঙ্গের অভিযোগে তারা শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করার মতো কঠোর নৈতিক পদক্ষেপ কেন নিলেন না?
বিরোধিতা সত্ত্বেও যৌথ সংবাদ সম্মেলন: একদিকে যখন দফায় দফায় নীতিগত দ্বিমত রেকর্ড করা হচ্ছিল, তখন অন্যদিকে সিইসি-র সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে যৌথ প্রেস ব্রিফিং বা জনসমক্ষে নির্বাচন সংক্রান্ত ঘোষণাগুলিতে তারা কেন অংশ নিলেন? যদি মতপার্থক্য মৌলিক হয়, তবে প্রাতিষ্ঠানিক ঐক্য বজায় রাখার এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
সবমিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সংবেদনশীল ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং তার পরবর্তী জনসমালোচনা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
