অশোকনগরে উত্তেজনা! রাস্তা জুড়ে দুর্গাপুজোর গেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্থানীয় মুসলিমদের

কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে দুর্গাপূজার মণ্ডপের স্বাগতম (Ashoknagar)গেট নির্মাণ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ তাঁদের গেট তৈরি…

ashoknagar-durga-puja-gate-row

কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে দুর্গাপূজার মণ্ডপের স্বাগতম (Ashoknagar)গেট নির্মাণ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ তাঁদের গেট তৈরি করতে বাধা দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁরা দাবি করেছেন যে এলাকাটি মুসলিম প্রধান হওয়ায় এখানে এ ধরনের গেট নির্মাণ করা যাবে না।ঘটনাটি ঘটেছে অশোকনগর এলাকায়।

Advertisements

দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্থানীয় পূজা কমিটি মণ্ডপের সামনে একটি স্বাগতম গেট তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। সাধারণত পূজার সময় এ ধরনের তোরণ বা গেট নির্মাণ করা হয়ে থাকে যাতে উৎসবের পরিবেশ আরও জমজমাট হয়। কিন্তু নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগেই আপত্তি ওঠে। স্থানীয় কিছু মানুষের দাবি, এলাকাটি তাঁদের এবং এখানে হিন্দু উৎসবের এ ধরনের কাঠামো তৈরি করা সমর্থনযোগ্য নয়।

   

আরও দেখুনঃ টুলু মণ্ডলের রক্ষাকবচের আর্জি খারিজ হাইকোর্টের, বিপাকে দেশত্যাগী পাথর ব্যবসায়ী

হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁরা শুধু নিয়মমাফিক পূজার আয়োজন করতে চেয়েছিলেন। গেট নির্মাণ কোনো স্থায়ী স্থাপনা নয়, উৎসব শেষে তা ভেঙে ফেলা হয়। (Ashoknagar)তা সত্ত্বেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নজরে রেখেছে বলে জানা গেছে।এ ধরনের ঘটনা উৎসবের মরশুমে উদ্বেগ বাড়ায়। দুর্গাপূজা বাংলার অন্যতম প্রধান উৎসব।

Advertisements

সব সম্প্রদায়ের মানুষ এতে অংশ নেন বা অন্তত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের সুযোগ দেন। কিন্তু যখন কোনো একটি সম্প্রদায় অন্যের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তখন সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। অশোকনগরের এই ঘটনাও সেই উদ্বেগকেই সামনে এনেছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির পরিবেশ ছিল।

পূজার সময় পাশাপাশি থাকা মানুষজন একে অপরকে সাহায্য করতেন। এবার হঠাৎ করে গেট নির্মাণ নিয়ে আপত্তি ওঠায় অনেকেই অবাক হয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, কিছু উসকানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। “এটা মুসলিম এলাকা, এখানে গেট হবে না” এমন দাবি উঠেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ এলাকায় টহল বাড়িয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

উভয় সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের লক্ষ্য যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে এবং পূজার আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।সমাজকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে ফেলা উচিত।বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করছেন। পূজা, রমজান বা অন্যান্য উৎসবে একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ঐতিহ্য রয়েছে।

সেই ঐতিহ্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।অশোকনগরের এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন, আবার কেউ বলেছেন স্থানীয়ভাবে সমাধান সম্ভব। সত্যতা যাচাই না করেই উসকানিমূলক মন্তব্য না করার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। প্রশাসন যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Advertisements