আমেরিকায় বজরংবলীর মূর্তি ভেঙে ফেলা নিয়ে বিস্ফোরক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনা অভিজ্ঞ

ওয়াশিংটন: আমেরিকার টেক্সাসে ৯০ ফুট উঁচু হনুমান মূর্তি নিয়ে (Ruchir Bakshi)সাম্প্রতিক বিতর্কের জবাব দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন সেনা অভিজ্ঞ। রুচির বকশি নামের এই প্রাক্তন…

ruchir-bakshi-hanuman-statue

ওয়াশিংটন: আমেরিকার টেক্সাসে ৯০ ফুট উঁচু হনুমান মূর্তি নিয়ে (Ruchir Bakshi)সাম্প্রতিক বিতর্কের জবাব দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন সেনা অভিজ্ঞ। রুচির বকশি নামের এই প্রাক্তন সেনা কর্মী আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেননি এই জন্য যে কেউ এসে তাঁর ধর্মের ওপর হামলা করবে।

Advertisements

ঘটনার সূত্রপাত হয় এক কনজারভেটিভ ইউটিউবার জেসি হিউজের পোস্টকে কেন্দ্র করে। তিনি হনুমান মূর্তির একটি ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “যখন আমরা জিতব, তখন এটি ভেঙে ফেলব।” এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন রুচির বকশি(Ruchir Bakshi)। তিনি একে দেশপ্রেমহীন এবং হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে হুমকি বলে অভিহিত করেছেন। বকশি মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনি যে দেশের হয়ে যুদ্ধ করেছেন, সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার।

   

আরও দেখুনঃ ‘বন্দে মাতরম্’ না গাওয়া ফৌজদারি অপরাধ নয়, ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

সুগার ল্যান্ডের অষ্টলক্ষ্মী মন্দিরে স্থাপিত এই ৯০ ফুট উঁচু ‘স্ট্যাচু অব ইউনিয়ন’ ২০২৪ সালে উন্মোচিত হওয়ার পর থেকেই কিছু কনজারভেটিভ ও ম্যাগা প্রভাবশালীর সমালোচনার মুখে পড়েছে। মূর্তিটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে গর্বের প্রতীক হলেও কেউ কেউ একে আমেরিকান সংস্কৃতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেছেন। সাম্প্রতিক এই বিতর্ক মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

Advertisements

রুচির বকশি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে সহযোদ্ধাদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দেখেছেন। খ্রিস্টান, মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সেনারা একসঙ্গে দেশের জন্য লড়াই করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি মনে করেন, ধর্মীয় প্রতীক ভাঙার হুমকি দেওয়া দেশের মৌলিক মূল্যবোধের বিরোধী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি একজন নাগরিক তাঁর ধর্ম পালন করতে না পারেন, তাহলে তিনি কোন দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন।

এই বিতর্ক শুধু একটি মূর্তিকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমেরিকায় ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও বহুত্ববাদের বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে এনেছে। ভারতীয় আমেরিকান সম্প্রদায়ের অনেকেই বকশির বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, আমেরিকায় হিন্দু মন্দির ও মূর্তি স্থাপন কোনো নতুন ঘটনা নয়। বিভিন্ন শহরে বড় বড় মন্দির রয়েছে এবং সেগুলো স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। হুমকি দিয়ে এগুলো ভাঙার কথা বলা উচিত নয়।

অন্যদিকে সমালোচকরা দাবি করছেন, এত বড় মূর্তি স্থাপন স্থানীয় চরিত্রের সঙ্গে মেলে না। কেউ কেউ একে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবেও দেখছেন। তবে বকশির মতো যুদ্ধাহত সেনারা যখন ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করেন, তখন সেই বক্তব্যের ওজন অনেক বেড়ে যায়। তিনি নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দেশের সেবা করেছেন।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলছেন, ধর্মীয় প্রতীকের ওপর হামলার হুমকি দেশের প্রতি অসম্মান।মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিতর্ক রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিছু নেতা ধর্মীয় সহিষ্ণুতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ সংস্কৃতির পরিচয় রক্ষার নামে কঠোর মন্তব্য করছেন। হনুমান মূর্তি নিয়ে এই বিতর্ক সেই বৃহত্তর আলোচনারই অংশ হয়ে উঠেছে।

Advertisements