Asteroids: জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গ্রহাণুর কারণে পৃথিবীতে ঘটতে পারে এমন এক সম্ভাব্য বড় বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, অন্তত ৪০,০০০ গ্রহাণুকে ‘পৃথিবীর নিকটবর্তী বস্তু’ (Near-Earth objects) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে – যার অর্থ হলো এগুলোর কারণে গ্রহটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঝুঁকি রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, মহাকাশে ভাসমান এই ৪০,০০০ পাথুরে বস্তুর মধ্যে ২,০০০টি গ্রহটির সাথে সংঘর্ষ ঘটিয়ে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালাতে পারে।
‘ডেইলি স্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে ৪০,০০০-এর এই সংখ্যাটি পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা গ্রহাণু শনাক্তকরণের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আমাদের গ্রহের জন্য এসব গ্রহাণুর সম্ভাব্য হুমকির মাত্রাও তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা গ্রহাণুগুলোর আকার কয়েক ফুট থেকে শুরু করে কয়েক মাইল পর্যন্ত হতে পারে এবং এদের কক্ষপথ এমন যে তা এদের পৃথিবীর খুব কাছাকাছি নিয়ে আসে।
বিশেষজ্ঞরা কী নিয়ে উদ্বিগ্ন?
এই বস্তুগুলোর এমন কক্ষপথে সরে আসার সম্ভাবনা, যা এদের পৃথিবীর কাছাকাছি নিয়ে আসে, তা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এই আচরণের কারণেই গ্রহ সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কাছে এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্রহাণু হলো পাথুরে অবশিষ্টাংশ, যা চার বিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় আগে সৌরজগৎ গঠনের সময় অবশিষ্ট থেকে গিয়েছিল।
এগুলোর অধিকাংশই মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী প্রধান গ্রহাণু বলয়ে অবস্থিত। ‘নিয়ার-আর্থ অ্যাস্টেরয়েড’ বা পৃথিবীর কাছাকাছি আসা গ্রহাণুগুলোর (NEA) গতিপথ এদের পৃথিবীর ২৮ মিলিয়ন মাইলের মধ্যে নিয়ে আসে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ব্যবস্থাপক লুকা কনভার্সি জানান যে, এ ধরনের গ্রহাণু আবিষ্কারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে; শতাব্দীর শুরুতে এই সংখ্যা ছিল এক হাজার, যা ২০১৬ সালে ১৫ হাজারে এবং ২০২২ সালে ৩০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।
সংঘর্ষের সম্ভাবনা
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে যে, আগামী একশ বছরের মধ্যে পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা প্রায় ২,০০০টি গ্রহাণুর কোনোটির সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম – বাস্তবে যা প্রায় অসম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, বৃহত্তম গ্রহাণুগুলোর ব্যাস এক মাইল পর্যন্ত হতে পারে; এগুলোর সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষ হলে তা ব্যাপক বৈশ্বিক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন যে, অধিকাংশ বড় আকারের গ্রহাণু শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে। বর্তমানে তাঁরা মাঝারি আকারের (৩০০ থেকে ৯০০ ফুট ব্যাসের) গ্রহাণু শনাক্ত করার ওপর মনোযোগ দিচ্ছেন। এ ধরনের গ্রহাণু শনাক্ত করা কঠিন হলেও এগুলো আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, এগুলোর মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
