জম্মু: জম্মু ও কাশ্মীরে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বড় অভিযান শুরু হয়েছে(Rohingya)। জম্মু শহরের বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল ভেঙে ফেলতে বাধ্য করা হচ্ছে। জমি মালিকদের কাছে নোটিশ পাঠানোর পর তারা ভাড়াটে রোহিঙ্গাদের চলে যেতে বলেছেন।
এর ফলে নারওয়াল, বার্মা কলোনি ও কিরিয়ানি তালাবসহ কয়েকটি বস্তিতে শতাধিক পরিবার এখন নিজেদের ঝুপড়ি ভেঙে সামানা গুছিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছেন।(Rohingya)স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরে প্রায় ১৪০০০ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এর মধ্যে শুধু জম্মু জেলার নারওয়াল এলাকাতেই সাত হাজারের বেশি মানুষ থাকেন বলে জানা গেছে।
আরও দেখুনঃ সিকিম সীমান্তে চিনা বাহিনীর হাতে ভারতীয় গোয়েন্দাদের আটক হওয়ার অভিজ্ঞতা জানালেন দোভাল
অনেকেই স্থানীয়দের সঙ্গে বিয়ে করে ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে হোল্ডিং সেন্টারে এখন মাত্র আড়াইশোর মতো মানুষ রাখা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন অস্থায়ী বস্তিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন।গতটি সূত্র জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বাসস্থান ও দোকান তৈরির অভিযোগে জমি মালিকদের নোটিশ দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর ল্যান্ড রেভিনিউ অ্যাক্টের ধারা অনুসারে কৃষিজমি আবাসিক কাজে ব্যবহার করা যায় না।
নোটিশ পাওয়ার পর জমি মালিকরা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে তিন দিনের মধ্যে জায়গা ছাড়তে বলেছেন। এর পর থেকে পরিবারগুলো টিন, কাঠ ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরিয়ে বাড়ি ভাঙতে শুরু করেছেন।নারওয়াল এলাকায় দেখা গেছে, শিশুরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্র সংঘের সাহায্য চাইছে। বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের নিয়ে পরিবারগুলো অটো বা অন্যান্য যানবাহনে সামানা নিয়ে কোথায় যাবেন তা জানেন না।
এই অভিযান শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটির সফরের প্রায় এক মাস পর। (Rohingya)কমিটি আগস্টে জম্মু সফর করে রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করেছিল। প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে দেওয়া এবং জমি মালিকদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে স্থানীয়দেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা আর নতুন করে রোহিঙ্গাদের জায়গা না দেন।রোহিঙ্গারা মায়ানমার থেকে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জম্মুতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে দৈনিক মজুর বা ছোট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ, অবৈধ নথি ও অন্যান্য অভিযোগের কারণে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর আগেও ২০২১ সালে কয়েকশো রোহিঙ্গাকে হিরানগরের হোল্ডিং সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
