কলকাতা: বাংলার উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নাটক অব্যাহত। মনোনয়ন প্রত্যাহার করার মাত্র তিন ঘণ্টা পরেই নিজের সিদ্ধান্ত বদল করলেন মমতা শিবিরের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, তিনি পিছপা হচ্ছেন না এবং ওই কেন্দ্রেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। শুক্রবার দলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি এবং কর্মীদের ওপর হুমকির কারণ দেখিয়ে তিনি প্রথমে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ফের লড়াইয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং শনিবার থেকেই জোরকদমে প্রচারে নামছেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও তাঁর হয়ে প্রচারে যেতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
নন্দীগ্রামের নাটক ও কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেফতার
অন্যদিকে, এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় মোড় সামনে আসছে। এর আগে শুক্রবার নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। বিশেষ সূত্রে খবর, তিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা করেন। কিন্তু এর পরই একটি ১৯ বছর পুরনো খুনের মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র রাজনৈতিক তরজা
কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই গ্রেপ্তারির টাইমিং নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও পালটা জবাব দিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মিলনের বিরুদ্ধে খুন এবং অস্ত্র আইনের মতো অত্যন্ত গুরুতর ধারায় মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বাংলার উপনির্বাচনের এই লড়াইয়ে নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
নন্দীগ্রামে বড় ধাক্কা: প্রার্থী পদ প্রত্যাহার ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-প্রার্থীর
পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি হবে ৫ গুন বড়! সমীক্ষায় উঠে এল বড় তথ্য
