নয়াদিল্লি: দিল্লির বিশেষ এনআইএ আদালত (VanDyke bail)শুক্রবার আমেরিকান নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইককে জামিন দিয়েছে।মায়ানমার ট্রেনিং ক্যাম্প মামলায় গ্রেফতার হওয়া এই ব্যক্তি ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিহার জেলে ছিলেন। আদালত এক লাখ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনের শর্তে তাকে মুক্তি দিয়েছে। শর্ত হল, তিনি মামলা চলাকালীন দেশ ছাড়তে পারবেন না এবং তদন্তের জন্য এনআইএর ডাকে হাজির হতে হবে।
এনআইএ এই মামলায় সাতজন বিদেশিকে গ্রেফতার করেছিল। (VanDyke bail)ভ্যানডাইকের সঙ্গে ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিকও আটক হয়েছিলেন। অভিযোগ, তারা মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে ঢুকে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। এনআইএ প্রথমে ইউএপিএ ধারায় মামলা করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি দাখিল করা চার্জশিটে শুধু ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ধারা ২১ ও ২৩ প্রয়োগ করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ নন্দীগ্রামে বড় ধাক্কা: প্রার্থী পদ প্রত্যাহার ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-প্রার্থীর
এই ধারাগুলো মূলত অবৈধ প্রবেশ ও ভিসা লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য।এনআইএ জানিয়েছে, ইউএপিএ সংক্রান্ত তদন্ত এখনও চলছে। প্রয়োজন হলে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে। আদালত বলেছে, অন্য ছয়জন ইউক্রেনীয় আসামিও একই ভিত্তিতে জামিনের আবেদন করতে পারেন। চার্জশিট বিবেচনার জন্য আগামী ১ অক্টোবর তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
ভ্যানডাইককে ‘মার্সেনারি’ বা ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।(VanDyke bail) তিনি এর আগেও মায়ানমারে গিয়েছেন বলে এনআইএর তথ্য। ভারতকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এবং অন্যরা মায়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। ড্রোন প্রশিক্ষণের ছবি ও সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে বলে সংস্থার দাবি।
তবে এখন পর্যন্ত ইউএপিএ ধারায় চার্জ না থাকায় আদালত ডিফল্ট জামিন মঞ্জুর করেছে।এই মামলায় বিদেশি চাপের কথাও উঠে এসেছে কিছু মহলে। আমেরিকান নাগরিক হওয়ায় কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আদালতের রায় সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করেই হয়েছে। ভ্যানডাইক এখন দিল্লিতে থাকবেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন।
তার দেশ ছাড়ার আবেদন আগামী ২২ সেপ্টেম্বর শুনানি হবে।মামলাটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত। মায়ানমারের অস্থিরতা এবং জাতিগত সংঘাত ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। এনআইএর তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ইউএপিএ ধারায় যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। আপাতত ভ্যানডাইক জামিনে মুক্ত, কিন্তু মামলার মূল বিষয়গুলো এখনও খোলা রয়েছে।
