নন্দীগ্রাম: জোড়াফুল প্রতীক ও পুরনো নাম হারানোর ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন চাঞ্চল্য। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে আচমকাই তাঁর প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করে নিলেন। গতকাল রাতেই ময়দানের পিডব্লিউডি (PWD) টেন্টে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এই আকস্মিক পদত্যাগের পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এর পেছনে নোংরা খেলা চলছে এবং তাঁরা বিজেপির কাছে কোনোভাবেই মাথা নত করবেন না।
মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ ও বিজেপিকে তোপ
সঞ্চিতা প্রধান দে-র প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অত্যন্ত অন্যায়ভাবে এই কাজ করা হয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এবং প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের শেষ দিনের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত চাপানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁকে প্রায়শই ‘হাউস অ্যারেস্ট’ বা গৃহবন্দি করে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে মমতা ঘোষণা করেছেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন, তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং কিছুতেই সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়বেন না।
উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত
আইনি জটিলতা ও প্রতীক সঙ্কটের আবহে উপনির্বাচনের অন্তর্বর্তীকালীন নিয়ম ও পরিস্থিতি মেনে শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ করেছে মমতা শিবির। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে তাঁরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছেন। প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার পর নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
