নয়াদিল্লি/কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের কঠোর অন্তর্বর্তী পদক্ষেপে জোড়াফুল প্রতীক এবং পুরনো নাম হারানোর পর এবার তৃণমূলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করল কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবির পেয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ (Envelope) প্রতীক।
কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত ও দুই পক্ষের প্রতিক্রিয়া
১৯৯৮ সাল থেকে বাংলার রাজনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীক এবং মূল নাম বাদ দিয়ে এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কেবল আসন্ন উপনির্বাচনের জন্যই প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে কমিশন। এই আদেশের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘আইনবহির্ভূত ও ত্রুটিপূর্ণ’ বলে তোপ দেগেছেন। যদিও উপনির্বাচনে লড়ার খাতিরে সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত মানতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের পক্ষে বিধানসভার প্রধান হুইপ ও বিধায়ক অখরুজ্জামান আনসারি এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। চূড়ান্ত রায়ে তাঁরাই আসল দলের নাম ও প্রতীক পাবেন বলে আত্মবিশ্বাসী বিদ্রোহী শিবির।
অভ্যুত্থান ও দলের ঐতিহাসিক ভাঙন
চলতি বছরের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই তৃণমূলে অন্তর্কোন্দল ও বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। যা পরবর্তীতে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। গত জুন মাসে ৫ই জুন ৫৪ জন বিদ্রোহী বিধায়ক মমতা শিবিরের প্রার্থীকে সরিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন, যা তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম বড় ভাঙন। পরবর্তীতে লোকসভার ২০ জন সাংসদও এনডিএ ব্লকের দিকে ঝুঁকে পড়ায় চরম সঙ্কটে পড়ে ঘাসফুল শিবির। চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপাতত এই নতুন নাম ও প্রতীক নিয়েই দুই পক্ষকে ভোট ময়দানে লড়তে হচ্ছে।
নিঠারি কাণ্ডে খালাস পাওয়ার পরেই চরম পরিণতি! হরিদ্বারে আত্মঘাতী সুরেন্দ্র কোহলি
EV পরিবহনে ভারতকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গেল রাজধানী দিল্লি
