বজবজে জমি হস্তান্তর, মহাষষ্ঠীতে ৬,০০০ কোটির প্রজেক্ট চালু, কর্মসংস্থানের জোয়ার

কলকাতা:  আসন্ন উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক বিরাট ও ইতিবাচক খবর সামনে এল। রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং বেকারত্ব দূর…

কলকাতা:  আসন্ন উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক বিরাট ও ইতিবাচক খবর সামনে এল। রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং বেকারত্ব দূর করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল রাজ্য মন্ত্রিসভা। বজবজ শিল্পতালুকসহ মোট ৩২টি স্বনামধন্য সংস্থাকে শিল্প স্থাপনের জন্য জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যাবিনেট বৈঠকের দ্বিতীয়ার্ধেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমস্ত সংস্থাগুলির হাতে জমির দলিল ও কাগজপত্র তুলে দেওয়া হবে। সরকারের এই সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ অঞ্চলসহ গোটা রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে এক বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Advertisements

বজবজে শিল্পতালুক গঠন ও শিল্পমহলের উচ্ছ্বাস

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে বড় বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে নানা মহলে চর্চা চলছিল। সেই খরা কাটিয়ে বজবজ শিল্পতালুককে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ৩২টি সংস্থাকে একসঙ্গে জমি দেওয়ার অর্থ হলো আগামী দিনে এই সমস্ত প্রজেক্টগুলি বাস্তবায়িত হলে সেখানে বহু কারখানা গড়ে উঠবে। এর ফলে শুধু যে স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নত হবে তা নয়, বরং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পুজোর প্রাক্কালে সরকারের এই ঘোষণা রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

   

মহাষষ্ঠীর পুণ্যলগ্নে ৬,০০০ কোটি টাকার হলদিয়া পেট্রোকেম ইউনিট উৎসর্গ

জমি হস্তান্তরের পাশাপাশি আরও একটি বড় মাইলফলকের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আগামী ১৪ অক্টোবর, অর্থাৎ আসন্ন দুর্গো পুজোর মহাষষ্ঠীর পুণ্যলগ্নে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার একেবারে নতুন ইউনিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যবাসীকে উৎসর্গ করা হবে। এই মেগা প্রজেক্টটি চালু হওয়ার ফলে রাজ্যে ডাউনস্ট্রিম বা অনুসারী শিল্পে (Downstream Industries) বিনিয়োগের পথ বহুগুণ প্রসারিত হবে। কাঁচামাল প্রাপ্তি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর বিকাশেও এটি এক বিশাল ভূমিকা নেবে।

সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে রাজ্য সরকারের এই জোড়া পদক্ষেপে বাংলায় শিল্প বিনিয়োগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার এই লগ্নির ফলে বাংলার অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে সম্পূর্ণ বদলে যাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন ইতিহাস তৈরি হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisements
Advertisements