দুই গোষ্ঠীই বিপাকে! উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে চলা বিবাদে বড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। চূড়ান্ত নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল…

trinamool-name-symbol-frozen-nandigram-rejinagar-bypolls-2026

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে চলা বিবাদে বড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। চূড়ান্ত নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ফলে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে (West Bengal Bypolls) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কোনও গোষ্ঠীই ওই নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সমতা বজায় রাখা এবং উভয় পক্ষের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।

Advertisements

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার দুই গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখনই কোনও পক্ষকে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীকও কোনও গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ থাকছে না।

   

নিজেদের পছন্দের নাম নিতে পারবে দুই পক্ষ

কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠী নিজেদের জন্য আলাদা নাম বেছে নিতে পারবে। চাইলে সেই নামের সঙ্গে তাদের মূল দল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখও রাখতে পারবে। অর্থাৎ, উপনির্বাচনে দুই পক্ষই নিজেদের পৃথক নির্বাচনী পরিচয় তৈরি করে লড়াই করতে পারবে। তবে সেই পরিচয়ের ক্ষেত্রে কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

আলাদা প্রতীকও নিতে হবে

শুধু দলের নাম নয়, নির্বাচনী প্রতীকও আলাদা হবে। কমিশনের চলতি উপনির্বাচনের জন্য বিজ্ঞাপিত মুক্ত প্রতীকের তালিকা থেকে দুই গোষ্ঠী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা প্রতীক বেছে নিতে পারবে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে ভোটারদের সামনে দুই গোষ্ঠীর প্রার্থীরা একই দলীয় নাম ও একই প্রতীক নিয়ে হাজির হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এর আগে দুই গোষ্ঠীই তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়া ঘাসফুল’ বা ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীকের উপর নিজেদের দাবি জানিয়েছিল।

Advertisements

কেন গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের এই সিদ্ধান্ত?

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে দুই গোষ্ঠীই প্রার্থী দিয়েছে। ফলে একই নাম ও প্রতীক ব্যবহার করলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত। কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে আপাতত সেই পরিস্থিতি এড়ানোর ব্যবস্থা করা হল। কমিশনের যুক্তি হল, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে সমান অবস্থানে রাখা এবং তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে অতীতের নজিরও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি

তবে এই সিদ্ধান্তকে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা যাবে না। নির্বাচন কমিশন এখনও দুই গোষ্ঠীর সাংগঠনিক দাবি এবং তাদের জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখছে। চূড়ান্ত আদেশে কোন পক্ষ দলের বৈধ সাংগঠনিক পরিচয় ও নির্বাচনী প্রতীক পাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

অর্থাৎ, আপাতত ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে মাঠে নামতে হবে। পরে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের নাম ও প্রতীকের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?

Read More:  Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা

Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও

Advertisements