Nuclear Powered Tank: চিনের সামরিক গবেষকরা ৬০ টন ওজনের পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন একটি প্রধান যুদ্ধ ট্যাংকের ধারণা প্রস্তাব করেছেন। এই ট্যাংকটি একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেলগান দ্বারা সজ্জিত থাকবে, যা অত্যন্ত উচ্চ গতিতে এবং দীর্ঘ দূরত্বে প্রজেক্টাইল বা গোলা নিক্ষেপ করতে সক্ষম। তাত্ত্বিকভাবে, প্রস্তাবিত এই ট্যাঙ্কটি প্রতি সেকেন্ডে ৩.৫ কিলোমিটার (ম্যাক ১০.২) গতিতে ৪৫০ কিলোমিটার (২৮০ মাইল) পর্যন্ত দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। চিন যদি এই ট্যাঙ্কটি তৈরি করে, তবে তা একটি বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে ভারতের জন্য, কারণ দেশ দুটির মধ্যে রয়েছে অবিচ্ছিন্ন স্থলসীমান্ত, যেখানে কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে ট্যাঙ্কগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
পারমাণবিক ট্যাঙ্কের ধারণা
চিনের এই পারমাণবিক ট্যাঙ্কের ধারণাটি প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী Acta Armamentarii-তে প্রকাশিত হয়েছে। ‘ইনার মঙ্গোলিয়া ফার্স্ট মেশিনারি গ্রুপ’ এবং ‘বেইজিং ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’-র গবেষকরা এই গবেষণাপত্রটি প্রস্তুত করেছেন। উল্লেখ্য, চিনের সাঁজোয়া যানের গবেষণা ও উন্নয়নের দায়িত্বে রয়েছে ‘ইনার মঙ্গোলিয়া ফার্স্ট মেশিনারি গ্রুপ’। এই গবেষণা প্রকল্পটি ‘ন্যাশনাল কি ল্যাবরেটরি অফ স্পেশাল ভেহিকেল ডিজাইন অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টিগ্রেশন টেকনোলজি’-র অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে।
চিনের নতুন ট্যাঙ্কের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
চিনের এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ৬০ টন ওজনের একটি প্রধান যুদ্ধ-ট্যাঙ্কের কাঠামোর (চ্যাসিস) ওপর ৫০-মেগাজুল (MJ) ক্ষমতার একটি বিশাল তড়িৎ-চৌম্বকীয় রেলগান (electromagnetic railgun) বসানো হবে। এর ‘মাজল ভেলোসিটি’ বা নলের মুখ থেকে নির্গমন-গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩.৫ কিলোমিটারে (অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ১২,৬০০ কিলোমিটার বা ম্যাক ১০.২) পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়াও, নতুন পারমাণবিক ট্যাঙ্কটির আঘাত হানার পাল্লা বা রেঞ্জ আনুমানিক ৪৫০ কিলোমিটার (২৮০ মাইল) বলে ধারণা করা হচ্ছে। আঘাতের মুহূর্তে এর শক্তির ঘনত্ব বিস্ফোরক ওয়ারহেডের শক্তির ঘনত্বকেও ছাড়িয়ে যায়, ফলে, এই ট্যাঙ্ক থেকে নিক্ষিপ্ত প্রজেক্টাইল বা গোলা ভারী কম্পোজিট আর্মার, কংক্রিটের বাঙ্কার এবং ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ভেদ করতে সক্ষম।
