সুপারকারের দুনিয়ায় নতুন চমক নিয়ে এল ফেরারি। সংস্থা উন্মোচন করেছে ২৯৬ জিটি মোডিফিকাটা (Ferrari 296 GT Modificata), যা ২৯৬ সিরিজের এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে চরম সংস্করণ হিসেবে সামনে এসেছে। সাধারণ রাস্তার জন্য নয়, শুধুমাত্র ট্র্যাক ব্যবহারের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে এই বিশেষ গাড়ি।
২৯৬ জিটি মোডিফিকাটার ভিত্তি নেওয়া হয়েছে ফেরারির ২৯৬ জিটি৩ ইভো রেস কার থেকে। তবে রেস কারের মতো এটি এফআইএ বা আইএমএসএ-র জিটি৩ রেসিং নিয়মের সীমাবদ্ধতায় আটকে নেই। ফলে রেসিং প্রোগ্রাম থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গাড়িটির ইঞ্জিন, অ্যারোডাইনামিক্স, ব্রেকিং এবং ট্র্যাক পারফরম্যান্সে আরও বড় পরিবর্তন করেছে ফেরারি।
এই গাড়ি তৈরি হবে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যায়। মূলত ফেরারির ক্লাব কমপেতিৎসিওনি জিটি ট্র্যাক অভিজ্ঞতা কর্মসূচির সদস্যদের জন্যই ২৯৬ জিটি মোডিফিকাটা দেওয়া হবে। সদস্যপদের মধ্যে রয়েছে দুই বছর অথবা ১২টি রাউন্ডে গ্রাহক রেসিং সিরিজে অংশগ্রহণের সুযোগ।

৭৩০ হর্সপাওয়ার, ৮০০ নিউটন-মিটার টর্ক
২৯৬ জিটি মোডিফিকাটায় রয়েছে ২৯৬ জিটি৩ ইভোর ৩.০ লিটারের টুইন-টার্বো ভি৬ পেট্রল ইঞ্জিন। তবে রাস্তার ২৯৬ জিটি বিটির মতো এখানে প্লাগ-ইন হাইব্রিড ব্যবস্থা নেই। ফেরারি ইঞ্জিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছে। নতুন কানেক্টিং রড এবং ক্যামশ্যাফ্টের পাশাপাশি পরিবর্তন করা হয়েছে এয়ার ইনটেক, ইন্টারকুলার, টার্বোচার্জার এবং এক্সহস্ট ব্যবস্থা। এর ফলে ইঞ্জিনের রেডলাইন ৮,০০০ আরপিএম থেকে বেড়ে হয়েছে ৮,৫০০ আরপিএম। সর্বোচ্চ শক্তি বেড়ে হয়েছে ৭৩০ হর্সপাওয়ার, যা ২৯৬ জিটি৩ ইভোর তুলনায় ১৩০ হর্সপাওয়ার বেশি। সর্বোচ্চ টর্ক ৮০০ নিউটন-মিটার। ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ৬-স্পিড সিকোয়েনশিয়াল গিয়ারবক্স। ট্র্যাক ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে গিয়ার রেশিওতেও পরিবর্তন করেছে ফেরারি।
ফিওরানো সার্কিটে মাত্র ১ মিনিট ১১ সেকেন্ড
ট্র্যাক পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে ২৯৬ জিটি মোডিফিকাটার ক্ষমতা বোঝাতে ফেরারি জানিয়েছে, গাড়িটি তাদের ফিওরানো টেস্ট ট্র্যাকে এক ল্যাপ সম্পূর্ণ করতে পারে মাত্র ১ মিনিট ১১ সেকেন্ডে। এই সময় ২৯৬ জিটি৩ ইভোর তুলনায় প্রায় তিন সেকেন্ড দ্রুত। দীর্ঘ সময় ধরে ট্র্যাকে আক্রমণাত্মকভাবে চালানোর জন্য ব্রেকিং সিস্টেমেও বড় পরিবর্তন করা হয়েছে। সামনে নতুন ডিস্ক এবং অতিরিক্ত কুলিং ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘ ট্র্যাক সেশনে ব্রেকের কার্যক্ষমতা ধরে রাখা যায়।
বিশাল রিয়ার উইং, নতুন অ্যারোডাইনামিক বডি
২৯৬ জিটি মোডিফিকাটার ডিজাইনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির একটি দেখা যায় অ্যারোডাইনামিক্সে। গাড়িতে রয়েছে নতুন ফ্রন্ট স্প্লিটার, নতুনভাবে ডিজাইন করা ইঞ্জিন কভার, আরও ভাস্কর্যধর্মী বডি সারফেস এবং বড় ফিক্সড রিয়ার উইং।ইঞ্জিনের অতিরিক্ত কুলিংয়ের প্রয়োজন মেটাতে সামনের এয়ার ইনটেকও বড় করা হয়েছে। গ্রিলের মধ্যে লেখা রয়েছে ‘মোডিফিকাটা’। ২৯৬ জিটি৩ ইভোর মতো এখানেও রয়েছে ড্রাইভিং লাইট, বাম্পার ক্যানার্ড, বনেট ল্যাচ এবং সামনের ফেন্ডারে এয়ার ডাক্টের মতো মোটরস্পোর্ট-অনুপ্রাণিত উপাদান।
গাড়িতে রয়েছে ১৮ ইঞ্চির চাকা, যার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে পিরেলি পি জিরো টায়ার। পিছনের রিয়ার উইংয়েও ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে নতুন সেন্টার পাইলন, ৫ মিলিমিটারের গার্নি ফ্ল্যাপ এবং নতুন এন্ডপ্লেট রয়েছে। এক্সহস্ট টিপের ডিজাইনও নতুন। পিছনের বিশাল ডিফিউজারটি অবশ্য জিটি৩ ইভোর ব্যবহৃত ইউনিটের সঙ্গে প্রায় একই রাখা হয়েছে।
Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?
Read More: Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা
Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও
রেসিং ককপিট, তবে দু’জনের আসন
গাড়িটির কেবিনও পুরোপুরি ট্র্যাক-কেন্দ্রিক। ভিতরে রয়েছে রেসিং বাকেট সিট, হারনেস, একাধিক সুইচ ও বোতাম সমৃদ্ধ সরল ড্যাশবোর্ড এবং মোটরস্পোর্ট থেকে নেওয়া স্টিয়ারিং হুইল। তবে ২৯৬ জিটি৩ ইভোর সিঙ্গল-সিট কনফিগারেশনের বদলে মোডিফিকাটায় রয়েছে দু’টি আসন। ফলে মালিক চাইলে সঙ্গে একজন যাত্রী বা ড্রাইভিং কোচকে নিয়ে ট্র্যাকে যেতে পারবেন। দুই যাত্রীর মধ্যে যোগাযোগের সুবিধার জন্য রয়েছে ইন্টারকম ব্যবস্থা। অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র একটি শক্তিশালী ট্র্যাক কার নয়, ফেরারির নিজস্ব গ্রাহক ট্র্যাক অভিজ্ঞতা কর্মসূচির জন্য তৈরি একটি বিশেষ মোটরস্পোর্ট মেশিনও।
