EPFO-র বেতনসীমা ২৫ হাজার টাকা, ৫১ লক্ষ কর্মী পাবেন সামাজিক সুরক্ষা

 নয়াদিল্লি: চাকরিজীবীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার।  এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা EPFO-র আওতায় বাধ্যতামূলক কভারেজের জন্য বেতনসীমা মাসে ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে…

epfo-wage-ceiling-hiked-to-25000-51-lakh-workers-social-security

 নয়াদিল্লি: চাকরিজীবীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার।  এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা EPFO-র আওতায় বাধ্যতামূলক কভারেজের জন্য বেতনসীমা মাসে ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

Advertisements

বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন পাওয়া আরও বিপুল সংখ্যক কর্মী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইপিএফও-র সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। কেন্দ্রের হিসাবে, এই সিদ্ধান্তের ফলে অতিরিক্ত ৫১ লক্ষেরও বেশি কর্মী বাধ্যতামূলক ইপিএফও কভারেজের আওতায় আসতে পারেন।

   

কোন কোন সুবিধা পাবেন কর্মীরা?

ইপিএফও-র বাধ্যতামূলক কভারেজের আওতায় এলে কর্মীরা প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ সঞ্চয়ের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম বা ইপিএসের অধীনে পেনশনের সুরক্ষা এবং এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইনস্যুরেন্স স্কিম বা ইডিএলআইয়ের মাধ্যমে বিমা সুরক্ষাও পাওয়া যাবে। বর্তমানে মাসে ১৫ হাজার টাকার বেশি বেতনে চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইপিএফ কাঠামোর আওতায় পড়েন না। বেতনসীমা ২৫ হাজার টাকা হলে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন পাওয়া কর্মীদের আরও বড় অংশ বাধ্যতামূলক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে চলে আসবেন।

২০১৪ সালের পর ফের বাড়ল বেতনসীমা

ইপিএফও-র বাধ্যতামূলক কভারেজের বেতনসীমা শেষবার পরিবর্তন করা হয়েছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। তখন সীমা ৬,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল। এরপর গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশে বেতন এবং আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সংগঠিত বা আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের পরিধিও বেড়েছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এবার বেতনসীমা ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের মতে, নতুন সীমা কার্যকর হলে ইপিএফও-র নিয়মিত অবদান এবং পেনশনযোগ্য বেতনের কাঠামোও বর্তমান বেতনস্তরের সঙ্গে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

Advertisements

সরকারের খরচ কত বাড়বে?

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় আনুমানিক ১১,৩৩৯ কোটি টাকা হতে পারে। বর্তমানে এই খাতে সরকারের বার্ষিক বাজেট সহায়তা প্রায় ১০,২৫০ কোটি টাকা। পাঁচ বছরের হিসাবে এই ব্যবস্থায় সরকারের আনুমানিক ব্যয় হবে প্রায় ৫৬,৬৯৬ কোটি টাকা। প্রস্তাবটি ২০২৬ সালের ১৬ জুন এক্সপেন্ডিচার ফাইন্যান্স কমিটির বৈঠকে সুপারিশ করা হয়েছিল। এরপর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়।

আনুষ্ঠানিক চাকরিতে সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর লক্ষ্য

কেন্দ্রের বক্তব্য, বেশি সংখ্যক কর্মীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনসিদ্ধ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার ফলে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষার সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। সরকারের মতে, কর্মীদের জন্য ইপিএফ, পেনশন এবং বিমা সুরক্ষা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রেও কর্মী ধরে রাখা, কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা এবং কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধিতে বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা কভারেজ সহায়ক হতে পারে।

কবে থেকে কার্যকর হবে?

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ইপিএফও-র সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। অর্থাৎ, বেতনসীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হলেও বাস্তবে নতুন কভারেজ কার্যকর করতে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে। এই পরিবর্তনের ফলে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনের মধ্যে থাকা কর্মীদের একটি বড় অংশ প্রথমবার বাধ্যতামূলক ইপিএফও সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় আসার সুযোগ পাবেন। সরকারের হিসাবে, অতিরিক্ত ৫১ লক্ষেরও বেশি কর্মী এর আওতায় আসতে পারেন।

Advertisements