নয়াদিল্লি: ক্রেমলিন সূত্রে জানা গিয়েছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। (Ukraine war)ক্রেমলিন বলছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুজনেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান খুঁজে বের করতে তাদের ‘গুড অফিসেস’ বা মধ্যস্থতার সদিচ্ছা জানিয়েছেন।
গতকাল রবিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদী ও শি উভয়েই ইউক্রেন সংকটের নিষ্পত্তিতে গভীর আগ্রহ দেখিয়ে সক্রিয়ভাবে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন। পুতিন তাদের এই প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।তবে ভারতের পথ চিনের থেকে আলাদা। চিন যেভাবে কোনো স্বাধীন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বা শান্তি রোডম্যাপ এগিয়ে দিয়েছে, ভারত সেই পথে হাঁটেনি।
আরও দেখুনঃ ২০২৫ থেকে উন্নতি হয়েছে ভারত-চিন সীমান্তে! উদ্বেগ বাড়ছে LOC তে
নয়াদিল্লি বরং ফ্যাসিলিটেটর বা সহায়কের ভূমিকা বেছে নিয়েছে। (Ukraine war)ভারতীয় কূটনীতিকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষের সঙ্গেই ধারণা ও পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করছেন। কোনো একতরফা পরিকল্পনা চাপিয়ে না দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধনের চেষ্টাই এখন নয়াদিল্লির মূল কৌশল।গত কয়েক সপ্তাহে এই নীরব কূটনীতির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী সরাসরি বলেছিলেন, ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে এখন যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয়, আর শান্তির প্রতিটি পদক্ষেপ নতুন আশা জাগায়। পুতিন সেদিন মোদীর কথায় ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, তারা সেই পথেই এগোচ্ছেন।
এরপরই বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর কিয়েভে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন, ভারত চাইলে যেকোনোভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত। জয়শঙ্কর বলেছিলেন, প্রতিটি দিনের যুদ্ধ মানে আরও মৃত্যু ও ধ্বংস। দুই পক্ষকেই পথ খুঁজে বের করতে হবে, কিন্তু ভারত যদি কোনোভাবে সহায়ক হতে পারে, তাহলে তারা প্রস্তুত।
জেলেনস্কিও ভারতের এই অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে আরেক দফা বৈঠকে মোদী আবারও সংলাপ ও কূটনীতির পথকেই একমাত্র সমাধান বলে উল্লেখ করেন। দুই নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা করলেও আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী সংকট, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়।
এই সংকটগুলো সামুদ্রিক বাণিজ্য ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।মস্কোয় ভারতের এই নীরব কূটনীতি নজরে পড়ছে। ( Ukraine war )ক্রেমলিন সূত্রে বলা হচ্ছে, রাশিয়ার অবস্থান অনেকটাই ভারতের শান্তির আহ্বানের সঙ্গে মিলে যায়। ভারত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি, বরং দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছে। এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানই এখন মস্কোর নজরে এসেছে। পেসকভের মন্তব্য অনুযায়ী, মোদী ও শি উভয়েই ইউক্রেন সংকট নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করেছেন এবং সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন। পুতিন তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
