কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ঠিকাদারদের বিপুল বকেয়া নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক(contractors)। বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া বা বিএআই-এর কলকাতা সেন্টার দাবি করেছে, রাজ্য সরকারের কাছে ঠিকাদারদের প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি জল জীবন মিশন, পথশ্রী এবং আমার পাড়া আমার সমাধানের মতো প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।
সংগঠনটি নতুন সরকারের কাছে এই বকেয়া দ্রুত পরিশোধের আবেদন জানিয়েছে।বিএআই কলকাতা সেন্টারের সম্পাদক রাজা মুখোপাধ্যায় বলেছেন, (contractors)এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া মূলত আগের তৃণমূল সরকারের আমলে জমেছে। করোনা পরবর্তী সময় থেকেই অনেক বিল আটকে আছে। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ইমেইল করে দ্রুত পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ আর নয় মাদ্রাসা তোষণ! পঞ্চম-অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি এবার মেধার ভিত্তিতে, ঘোষণা শুভেন্দুর
সংগঠনের দাবি, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছোটখাটো কিছু বিল পরিশোধ শুরু করেছে। তবে বড় অঙ্কের বকেয়া এখনও আটকে রয়েছে।ঠিকাদারদের অভিযোগ, কাজ শেষ করে বিল তোলার পরও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় এক বছরেরও বেশি অপেক্ষা করতে হয়।
এর মধ্যে তাঁদের জিএসটি পরিশোধ করতে হয়। বিল ওঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই জিএসটি দিতে হয়, অথচ সরকারের টাকা আসতে দেরি হয়। এতে ঠিকাদারদের আর্থিক চাপ বাড়ে। সংগঠনটি চেয়েছে, সরকারের টাকা পাওয়ার পর জিএসটি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।এই বকেয়ার কারণে অনেক প্রকল্প থমকে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। রাস্তা নির্মাণ, জলের পাইপলাইন, বাঁধ ও অন্যান্য পরিকাঠামো প্রকল্পে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ঠিকাদাররা বলছেন, তাঁরা রাজনৈতিক রং ধরেন না। (contractors)আগের সরকারের অনিয়মের জন্য তাঁদের শাস্তি হওয়া উচিত নয়। নতুন সরকার প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করছে। যেগুলো পরিষ্কার পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর টাকা ছাড়ছে। তবে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় অনেক কাজ বন্ধ হয়ে আছে।
বিএআই-এর জাতীয় ট্রাস্টি প্রদীপ চৌধুরী বলেছেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে কেন্দ্র টাকা দিলেও রাজ্য স্তরে ঠিকাদারদের পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। এই সমস্যা শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, অন্য রাজ্যেও কমবেশি দেখা যায়। তবে বাংলায় পরিকল্পনা ছাড়াই টেন্ডার ডাকা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের প্রাক্তন অল ইন্ডিয়া প্রেসিডেন্ট।নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুরনো বিলগুলো যাচাই-বাছাই শুরু করেছে।
অনিয়ম ও কমিশনের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে অনেক পেমেন্ট আটকে রাখা হয়েছে। ঠিকাদাররা বলছেন, তাঁরা এই পর্যালোচনাকে সমর্থন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে টাকা না পেলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যাংকের ঋণ, শ্রমিকের মজুরি ও সরবরাহকারীদের পাওনা মেটাতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
