ব্রিকস মঞ্চে মুখে ঝামা পাকিস্তানের! দিল্লির কূটনৈতিক জয়, পহেলগাঁও ইস্যুতে ভারতের পাশে রাশিয়া-চিন-ইরান

ব্রিকসের মঞ্চে ফের বড় ধাক্কা পাকিস্তানের! পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার নিন্দায় একসুরে রাশিয়া, চিন, ইরান-সহ ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি। শুধু হামলার নিন্দাই নয়, সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া, জঙ্গিদের…

ব্রিকসের মঞ্চে ফের বড় ধাক্কা পাকিস্তানের! পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার নিন্দায় একসুরে রাশিয়া, চিন, ইরান-সহ ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি। শুধু হামলার নিন্দাই নয়, সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া, জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস ছড়ানোর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে ব্রিকস। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ইসলামাবাদকে আরও একবার চাপে ফেলতে সফল নয়াদিল্লি—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

Advertisements

দিল্লি ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা যথেষ্ট স্পষ্ট। কোন দেশ সন্ত্রাসবাদকে কীভাবে ব্যবহার করছে, তা বিচার না করে সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সন্ত্রাস দমনে দ্বিমুখী নীতি বা ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রিকস। আর এখানেই পাকিস্তানের জন্য বড় অস্বস্তি দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

   

কারণ, জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আশ্রয় দেওয়া এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। ভারতও বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে এসেছে। এবার ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ধ্বংস করা এবং জঙ্গিদের অর্থের জোগান বন্ধ করার মতো বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেওয়ায় ভারতের অবস্থানই কার্যত আরও জোরালো হল।

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হল, পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চিনও এই বৃহত্তর সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের অংশ হয়েছে। রাশিয়া এবং ইরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশও পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করেছে। ফলে পাকিস্তানকে সরাসরি নাম করে আক্রমণ না করেও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্বস্তিতে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Advertisements

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও রকম বিভাজন বা বাছবিচার চলতে পারে না। সন্ত্রাসবাদ যে কোনও রূপেই আসুক, তার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সন্ত্রাসে অর্থের জোগান বন্ধ করা, জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল ধ্বংস করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

শুধু জঙ্গি কার্যকলাপ নয়, যুবসমাজের মধ্যে উগ্রপন্থী মতাদর্শের প্রসার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকস। তরুণ প্রজন্মকে চরমপন্থার প্রভাব থেকে দূরে রাখা এবং উগ্রবাদী প্রচারের মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ঘোষণাপত্র ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই নয়াদিল্লি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে রাশিয়া, চিন, ইরান-সহ সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত অবস্থান সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করল।

অর্থাৎ, পাকিস্তানকে সরাসরি নিশানা না করেও দিল্লি ঘোষণাপত্রে ইসলামাবাদের জন্য বার্তা যথেষ্ট স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনও দেশ দীর্ঘদিন পার পাবে না। পহেলগাঁও ইস্যুতে ব্রিকসের অবস্থান তাই ভারতের কূটনৈতিক পাল্লা ভারী করল, আর পাকিস্তানের উপর বাড়াল আন্তর্জাতিক চাপ।

Advertisements