স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবায় মাস্কের সঙ্গে প্রতিযোগিতা! ৬০০ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাবে JIO

মুম্বই: ভারতের ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা হতে চলেছে (satellite internet)। দেশের বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানি রিলায়েন্স জিও এবার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবায় পা রাখতে…

jio-satellite-internet

মুম্বই: ভারতের ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা হতে চলেছে (satellite internet)। দেশের বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানি রিলায়েন্স জিও এবার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবায় পা রাখতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ সরাসরি স্পেসএক্সের স্টারলিংকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে। জিও পরিকল্পনা করেছে প্রায় এক হাজার ছয়শো স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর।

Advertisements

এসব স্যাটেলাইট প্রায় ছয়শো পঞ্চাশ কিলোমিটার উচ্চতায় মোতায়েন করা হবে, যা স্টারলিংকের গড় পাঁচশো পঞ্চাশ কিলোমিটার উচ্চতার চেয়ে কিছুটা উপরে। (satellite internet)এই উচ্চতার নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। স্টারলিংক নিম্নতর কক্ষপথে কাজ করলেও জিওর পরিকল্পিত অবস্থান অ্যামাজন লিওর কাছাকাছি। অ্যামাজনের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক প্রায় ছয়শো ত্রিশ কিলোমিটার উচ্চতায় পরিচালিত হয়।

   

আরও দেখুনঃ দুর্গাপুজোর আগেই ৩৩ টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে জমি হস্তান্তরের ভাবনা শুভেন্দু সরকারের

জিওর এই অবস্থান নির্বাচনের পেছনে কারিগরি ও কভারেজের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চতর কক্ষপথ থেকে বৃহত্তর এলাকা কভার করা সম্ভব হলেও সিগন্যালের বিলম্ব কিছুটা বাড়তে পারে। তবে কোম্পানি এ বিষয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে।জিওর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্পের সময়সূচিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কোম্পানি আনুমানিক দুই হাজার সাতাশ সালের দিকে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ শুরু করতে পারে।

Advertisements

এরপর দুই হাজার আটাশ সালের শুরু থেকে ব্যাপক হারে স্যাটেলাইট (satellite internet)মোতায়েনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমা মেনে চলতে পারলে ভারতের দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাহাড়, জঙ্গল বা দ্বীপঞ্চলের মতো জায়গায় যেখানে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক পৌঁছানো কঠিন, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে এখন প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। (satellite internet)স্টারলিংক ইতিমধ্যেই দেশে সেবা চালুর জন্য অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অ্যামাজনও তাদের লিও প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জিওর প্রবেশ বাজারকে আরও ব্যস্ত করে তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক খেলোয়াড় থাকলে গ্রাহকরা উপকৃত হবেন। প্রতিযোগিতার ফলে সেবার মান বাড়বে এবং মূল্যও সাশ্রয়ী হতে পারে।

একই সঙ্গে দেশীয় কোম্পানির অংশগ্রহণ জাতীয় নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।জিওর এই উদ্যোগ শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এটি অবদান রাখতে পারে। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখনো উচ্চগতির ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত। স্যাটেলাইট সেবা চালু হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। কৃষকরা আবহাওয়ার তথ্য দ্রুত পেতে পারবেন, ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ছোট ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল। (satellite internet)কক্ষপথে স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়লে মহাকাশ ট্রাফিক ও ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন, স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ও জরুরি। জিওকে এসব বিষয়ে সতর্কভাবে এগোতে হবে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কারিগরি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তব রূপ দেখা যেতে পারে।

Advertisements