প্রাক্তন মাওবাদীদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ড পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে। অভিযানে পুলিশের সঙ্গে ছিল সিআরপিএফের কোবরা বাহিনীও। উদ্ধার হয়েছে দু’টি INSAS রাইফেল, শতাধিক রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একাধিক ম্যাগাজিন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া দুই মাওবাদী—রঘু সিং সর্দার ওরফে সাগর ওরফে বীরেন সিং এবং মীনা পাহাড়িয়া ওরফে নেপু—কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁদের কাছ থেকেই মাওবাদীদের পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়।
এরপর বাঁকুড়া জেলা পুলিশ, ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং কোবরা বাহিনীর যৌথ দল ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসওয়ান জেলার কুচাই থানা এলাকার পাহাড়ি ও জঙ্গল অঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চালায়। দুর্গম এলাকায় দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর মাটির নিচে এবং জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রের সন্ধান মেলে। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় দু’টি INSAS রাইফেল, ১০০-র বেশি রাউন্ড গুলি এবং ছ’টি ম্যাগাজিন।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে থাকা INSAS রাইফেল দু’টির উৎস নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এর একটি ২০০৮ সালে এবং অন্যটি ২০১৩ সালে পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাই করেছিল মাওবাদীরা। অস্ত্রগুলির সিরিয়াল নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে সেগুলির অতীত সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
তবে অভিযান এখানেই শেষ নয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোথা থেকে এসেছিল, কতদিন ধরে ওই জঙ্গলে সেগুলি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে কোনও নাশকতার কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও কোনও অস্ত্রভাণ্ডার ওই এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা জানতে জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই অভিযানের ফলে মাওবাদীদের পুরনো নেটওয়ার্ক এবং অস্ত্র মজুতের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রাক্তন ও ধৃত মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকাতেও নজরদারি আরও বাড়ানো হতে পারে।
