রূপনারায়ণপুরের বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা হিন্দুস্থান কেবলস কারখানার জমিতে নয়া শিল্পের পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ হয়ে পড়া সরকারি কারখানার জমি নতুন করে শিল্পের (Hindustan Cables)কাজে লাগানোর উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। রূপনারায়ণপুরের হিন্দুস্তান কেবলস কারখানার প্রায় নয়শো সাতচল্লিশ একর…

hindustan-cables-rupnarayanpur

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ হয়ে পড়া সরকারি কারখানার জমি নতুন করে শিল্পের (Hindustan Cables)কাজে লাগানোর উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। রূপনারায়ণপুরের হিন্দুস্তান কেবলস কারখানার প্রায় নয়শো সাতচল্লিশ একর জমি এখন নতুন শিল্প অধ্যায়ের সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকা এই কারখানার জমি ব্যবহারের বিষয়ে রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের আধিকারিকরা জমির মানচিত্র ও নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন।

Advertisements

২০১৬ সালে কারখানা বন্ধের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে বিশাল এলাকাটি অনেকটাই অব্যবহৃত পড়ে আছে। এখন রাজ্য সরকার এই জমিতে অবৈধ দখল, অবৈধ দোকান ও বসতি, পুলিশের অভিযোগ এবং অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগের মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। লক্ষ্য হল জমিকে পরিষ্কার করে নতুন শিল্প স্থাপনের উপযোগী করে তোলা।

   

আরও দেখুনঃ অক্টোবরেই জোড়া সাইক্লোনের হানা! ৪৪ বছরের রেকর্ড ভেঙে চরম আশঙ্কার কথা শোনাল ইসরো

স্থানীয় অর্থনীতি যেন আবার সচল হয়, সেই আশা নিয়েই এই উদ্যোগ। (Hindustan Cables)রাজ্য সরকার চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস থেকে পাওয়া একশো আট একর জমিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা ভাবছে। প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ দিয়ে সেটি সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের অধীনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আসানসোলের বহুদিন ধরে বন্ধ থাকা সাইকেল কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার জমিও পরিদর্শন করা হয়েছে।

Advertisements

বন্ধ পাবলিক সেক্টর ইউনিটগুলোর অব্যবহৃত জমি আবার উৎপাদনশীল কাজে লাগানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে।হিন্দুস্তান কেবলস একসময় টেলিযোগাযোগ তার উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। রূপনারায়ণপুরে গড়ে ওঠা এই কারখানা স্থানীয় মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস ছিল। বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এলাকার অর্থনীতিতে ধস নামে। অনেক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়ে।

এখন যদি নতুন শিল্প গড়ে ওঠে, তাহলে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং আশপাশের এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে শিল্পবান্ধব নীতি(Hindustan Cables)। বন্ধ কারখানার জমি পড়ে না রেখে সেগুলোকে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। জমির অবৈধ দখল দূর করা, নথিপত্র ঠিক করা এবং পরিকাঠামো প্রস্তুত করা হলে বড় শিল্প গোষ্ঠী আকৃষ্ট হতে পারে।

আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্প বলয়ে এই জমিগুলোর অবস্থানও বিনিয়োগের জন্য সুবিধাজনক।স্থানীয় মানুষের মধ্যেও আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা চান দ্রুত কোনো শিল্প গড়ে উঠুক যাতে কর্মসংস্থান ফিরে আসে। রাজ্যের আধিকারিকরা জমির বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে জমি হস্তান্তরের বিষয়ও এগোতে পারে।

Advertisements