নতুন মিসাইলের জন্য আরও ৩০ পরমাণু ওয়ারহেড! ভারতের অস্ত্রভাণ্ডার বেড়ে ১৯০

নয়াদিল্লি: ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে(Nuclear Warheads)। মার্কিন অলাভজনক নীতি গবেষণা সংস্থা ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস (FAS)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে…

india-nuclear-warheads-190

নয়াদিল্লি: ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে(Nuclear Warheads)। মার্কিন অলাভজনক নীতি গবেষণা সংস্থা ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস (FAS)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার জন্য অন্তত ৩০টি অতিরিক্ত পরমাণু ওয়ারহেড তৈরি করেছে ভারত।

Advertisements

এর ফলে বর্তমানে ভারতের কাছে মোট পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে বলে অনুমান করেছে সংস্থাটি। ‘India’s Nuclear Weapons – 2026’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের হাতে আগে থেকেই প্রায় ১৬০টি পরমাণু ওয়ারহেড ছিল, যা বর্তমানে কার্যকর লঞ্চারগুলির সঙ্গে যুক্ত করার উপযোগী। নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি ও মোতায়েনের প্রস্তুতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে রিপোর্টটি।

   

আরও দেখুনঃ অ্যালুমিনিয়াম প্যাকেজিং শিল্পে বিশ্বে শীর্ষ স্থানে যোগী রাজ্য

FAS-এর Nuclear Information Project-এর গবেষকদের তৈরি এই বিশ্লেষণে ভারতের পরমাণু কর্মসূচির সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদের মতে, ভারত বর্তমানে নয় ধরনের পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।

Advertisements

এর মধ্যে রয়েছে দুটি যুদ্ধবিমান, ছয়টি স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং (Nuclear Warheads)একটি সমুদ্রভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। পাশাপাশি আরও অন্তত দুটি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যবস্থা উন্নয়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী এক থেকে কয়েক বছরের মধ্যে সেগুলি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত সরকার প্রকাশ্যে দেশের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের সঠিক সংখ্যা জানায় না। তাই FAS-এর এই হিসাব সরাসরি সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে নয়। সরকারি বিবৃতি, অবমুক্ত নথি, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণ, প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রকাশনা এবং বাণিজ্যিক উপগ্রহ চিত্রের মতো একাধিক উন্মুক্ত উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই অনুমান তৈরি করা হয়েছে। ফলে সংখ্যাগুলি আনুমানিক এবং এর সঙ্গে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে।

ভারতের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিতে অস্ত্র-গ্রেড প্লুটোনিয়ামের ভূমিকা নিয়েও (Nuclear Warheads)বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মুম্বইয়ের ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার কমপ্লেক্সে থাকা ধ্রুব রিঅ্যাক্টর দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অস্ত্র-গ্রেড প্লুটোনিয়ামের অন্যতম প্রধান উৎস। এর পাশাপাশি কালপাক্কামে ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চের ৫০০ মেগাওয়াটের প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর বা PFBR ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

FAS-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত ভারতের কাছে আনুমানিক ৭৩০ কেজি অস্ত্র-গ্রেড প্লুটোনিয়াম থাকতে পারে। প্রতি ওয়ারহেডে প্রায় ৪ কেজি প্লুটোনিয়াম প্রয়োজন ধরে তাত্ত্বিকভাবে এই মজুত দিয়ে ১৪০ থেকে ২২৫টি পর্যন্ত ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই সমস্ত প্লুটোনিয়াম ইতিমধ্যেই অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। কিছু উপাদান মজুত হিসেবেও রাখা হতে পারে। তাছাড়া কতগুলি অস্ত্র বাস্তবে তৈরি করা হবে, তা নির্ভর করে সেগুলি বহনের উপযুক্ত লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সংখ্যার উপর।

আগামী দিনে ভারতের পরমাণু সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে রিপোর্টটি। কালপাক্কামের PFBR-এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলি সফলভাবে পরিচালিত হলে ভারতের কাছে অস্ত্র কর্মসূচির জন্য ব্যবহারের উপযোগী প্লুটোনিয়ামের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে FAS-এর বিশ্লেষণ।

Advertisements