বেঙ্গালুরু: কর্ণাটক সরকার এক নতুন নির্দেশনা জারি করে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে (Vande Mataram)। কংগ্রেস শাসিত এই রাজ্যের মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সরকারি ও জনসাধারণের অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম গানটির শুধু প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে। তবে যদি রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা রাজ্যপাল উপস্থিত থাকেন, তাহলে পুরো গানটি পরিবেশিত হবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্ক।বন্দে মাতরম গানটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রতীক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানটি একসময় দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামী এই গানের সুরে অনুপ্রাণিত হয়ে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু গানটির পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতভেদ চলে আসছে।
আরও দেখুনঃ ষষ্ঠ তফসিল নয়! লাদাখকে আর্টিকেল ৩৭১-এর অধীনে ‘চ্যাপ্টার কে’ প্রস্তাব শাহের
১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে শুধু প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে(Vande Mataram)। সেই সিদ্ধান্তকেই এখন কর্ণাটক সরকার অনুসরণ করছে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছিল যে জাতীয় সঙ্গীতের আগে বন্দে মাতরমের ছয়টি স্তবকই গাওয়া হবে। বিশেষ করে গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই নির্দেশনা এসেছিল। কিন্তু কংগ্রেস দল তাদের পুরনো অবস্থানে অটল রয়েছে।
তারা মনে করে, পূর্ণাঙ্গ গানটি কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই দলীয় অনুষ্ঠানে শুধু দুই স্তবকই গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন সেই সিদ্ধান্তই রাজ্য সরকারের নীতিতে পরিণত হয়েছে।কর্ণাটকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে একরূপতা, মর্যাদা এবং উপযুক্ত প্রোটোকল বজায় রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রকৃতি ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী গান পরিবেশনের নিয়ম ঠিক করা হয়েছে। (Vande Mataram)সাধারণ সরকারি অনুষ্ঠানে দুই স্তবকই যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ পদস্থ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকলে পুরো গানটি গাওয়া হবে। এতে একদিকে দলীয় অবস্থান বজায় থাকছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সঙ্গেও আংশিক সমন্বয় করা হচ্ছে।এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দল বিজেপি তীব্র সমালোচনা করেছে।
তারা বলছে, কংগ্রেস জাতীয় গানের প্রতি অসম্মান দেখাচ্ছে। অতীতেও বন্দে মাতরম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, গানটির পরবর্তী স্তবকগুলোতে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর উল্লেখ থাকায় এটি মুসলিমদের কাছে ধর্মীয় মনে হয়।
অন্যরা মনে করেন, এটি শুধুই দেশপ্রেমের গান এবং পূর্ণাঙ্গভাবে গাওয়া উচিত। এছাড়াও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে স্বাধীনতা দিবসে রাহুল এবং সোনিয়া গান্ধী বন্দে মাতরমকে যথেষ্ট অপমান করেছেন এবং মাঝপথে থামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবং এবার কর্ণাটক সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের আইনের পরিপন্থী। তাই কেন্দ্রীয় সরকার আইনত ব্যাবস্থা নিক বলেই দাবি তুলেছে তারা।
