নয়াদিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়ে আরও এক ধাপ উদ্বেগের ছবি সামনে এল। আমেরিকার জনপ্রিয় এআই সংস্থা ‘অ্যানথ্রপিক’ (Anthropic)-এর প্রকাশিত এক বিশদ নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা তাদের গাইডেড মিসাইল এবং রকেটের সফটওয়্যার তৈরিতে অ্যানথ্রপিকের ফ্ল্যাগশিপ এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ (Claude)-কে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
১৫৪ পাতার ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর থেকে অগাস্ট মাসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গোষ্ঠী কীভাবে এআই মডেলের অপব্যবহার করেছে, তা চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে যেমন জৈব অস্ত্র তৈরি বা সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির চেষ্টা রয়েছে, তেমনই রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নেভিগেশন ও গাইডেন্স সফটওয়্যার তৈরির মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
এআই-কে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং টিম’ হিসেবে ব্যবহার
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় একটি অস্ত্র গবেষণা সেল তিনটি ভিন্ন মিসাইল প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করছিল। যার মধ্যে ছিল ফোন-ক্লাস ফ্লাইট কম্পিউটার চালিত একটি গাইডেড রকেট, ২০০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার মাল্টিস্টেপ ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেলযুক্ত ‘R2000’ সিরিজের মিসাইল। এই সামরিক প্রজেক্টগুলিতে রকেট পরিচালনা, দিক নির্ণয় এবং স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ‘GNC’ (Guidance, Navigation, and Control) সফটওয়্যার কোড লিখতে ‘Claude Code’-এর সাহায্য নেওয়া হয়েছিল।
মিলিট্যান্টরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একাধিক ইনস্ট্যান্স একসঙ্গে চালু রেখে একটির মাধ্যমে কোডিং, অন্যটির মাধ্যমে গবেষণা এবং তৃতীয়টির মাধ্যমে সেই কোড পর্যালোচনা করিয়ে নেওয়ার মতো অত্যন্ত আধুনিক কৌশল অবলম্বন করেছিল। এমনকি নিষেধাজ্ঞা বা সেফটি গার্ডরেল এড়াতে কাজের বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা সেশনে ভাগ করে ক্লডকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। রকেটের একটি ফিল্ড টেস্ট ব্যর্থ হওয়ার পরপরই জঙ্গিরা ত্রুটি সংশোধনের জন্য ফের ক্লডের দ্বারস্থ হয়েছিল বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। অবশ্য এই অসদুপায় নজরে আসতেই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
Conventional Weapons বা প্রথাগত অস্ত্র তৈরির পাশাপাশি চিন ও রাশিয়ার বিভিন্ন কুশীলবদের সাইবার হ্যাকিং, গণ-নজরদারি এবং জৈব গবেষণায় এআই অপব্যবহারের একাধিক ঘটনা এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে, এই রিপোর্ট প্রকাশের ঠিক আগেই অ্যানথ্রপিকের শীর্ষ গবেষক জ্যাকব কক্সন (Jacob Coxon) নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর দাবি, যেভাবে এআই প্রযুক্তির লাগামছাড়া গতি বাড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মানবজাতির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং তা চরম বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, ক্রমবর্ধমান এআই ক্ষমতার সঠিক নিয়ন্ত্রণ এবং সুরক্ষাবলয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
