ইরানের গোপন পরমাণু কেন্দ্রে নির্মাণকাজ, পাহাড়ে ঘেরা ‘পিকঅ্যাক্স’ সাইটে হামলার হুঙ্কার ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন/তেহরান: মার্কিন-ইরান ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এক অত্যন্ত সুরক্ষিত গোপন পরমাণু কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকার সিএনএন-এর প্রকাশিত রিপোর্ট এবং সেন্টার…

ওয়াশিংটন/তেহরান: মার্কিন-ইরান ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এক অত্যন্ত সুরক্ষিত গোপন পরমাণু কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকার সিএনএন-এর প্রকাশিত রিপোর্ট এবং সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরে ইরানের নাতান্জ পরমাণু কমপ্লেক্সের কাছে এবং তেহরানের প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ (Pickaxe Mountain) পারমাণবিক সাইটে নির্মাণকাজ অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূগর্ভস্থ এই সুরক্ষিত কেন্দ্রটি গ্রানাইট পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত হওয়ায় গোয়েন্দা মহলের নজর রয়েছে এর ওপর।

Advertisements

সিএসআইআর-এর বিগত ছয় বছরের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে এই পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণকাজের গতি একলাফে অনেক বেড়েছে। টানেলের প্রবেশপথগুলোর শক্তপোক্তকরণ ও পুনর্বিন্যাস, অভ্যন্তরীণ রাস্তা পাকা করা, বিভিন্ন অ্যাক্সেস পয়েন্টের আশপাশে কাজ এবং খননকাজের জঞ্জাল অপসারণের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছে। থিংক ট্যাঙ্কের মতে, বিগত যেকোনো বছরের তুলনায় চলতি বছরে এই সাইটে সড়ক সংক্রান্ত তৎপরতা ছিল সর্বোচ্চ। এই পরিবর্তনগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভূগর্ভস্থ এই সুবিশাল প্রকল্পের প্রাথমিক খনন পর্ব পেরিয়ে এখন অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো নির্মাণ ও সুরক্ষামূলক কাজের দিকে এগোচ্ছে ইরান।

   

সেন্ট্রিফিউজ বসানোর জল্পনা ও ইসরায়েলের উদ্বেগ

তবে ওই ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে ইতিমধ্যেই ইরান কোনো সেন্ট্রিফিউজ স্থানান্তর করেছে কি না, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও মেলেনি। সিএসআইআর জানাচ্ছে, ধারাবাহিক এই নির্মাণকাজ থেকেই স্পষ্ট যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও এই সাইটটি এখনও সেই কাজে পুরোপুরি সক্ষম হয়ে ওঠেনি। মূলত ২০২০ সালে নাতান্জে ইরানের সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই এই সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ সাইটটি গড়ে তোলা হয়েছে। গ্রানাইট পাহাড়ের নিচে সুরক্ষিত থাকায় বিমান হানার বিরুদ্ধে এটি বিশেষ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা বাঁচাতে ইরান এই পাহাড়ি গুহায় সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে এটি সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন কেন্দ্র, সমৃদ্ধকরণ সাইট কিংবা অন্য কোনো পারমাণবিক কার্যক্রমের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আমেরিকার কড়া হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতি

পাহাড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই কেন্দ্রটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই সাইটে বড় ধরনের সন্দেহজনক তৎপরতা দেখা গেলে আমেরিকা সেখানে সামরিক হামলা চালাতে পারে। ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা খুব শীঘ্রই ‘পিকঅ্যাক্স’-এ আঘাত হানতে পারেন। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রানাইট পাহাড়ের এত গভীরে অবস্থিত বাঙ্কারগুলি ধ্বংস করার মতো ক্ষমতা আমেরিকার বর্তমান প্রচলিত বৃহত্তম বোমার রয়েছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

Advertisements

এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আমেরিকা ইতিমধ্যেই নিজেদের ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। সংঘর্ষের পরিবেশ তৈরির আগেই আমেরিকার একটি প্রতিরক্ষা সংস্থা নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস মিসাইল রেঞ্জের একটি সাবটেরিয়ান বা ভূগর্ভস্থ টেস্ট ফ্যাসিলিটি সংস্কারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে চুক্তি অনুমোদন করেছিল। পাশাপাশি, প্রচলিত বাঙ্কার-বাস্টার বোমার চেয়েও গভীরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এক নতুন প্রজন্মের পেনিট্রেটর অস্ত্র তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সেনা।

পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার ইরানের

এদিকে, আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর পরিদর্শকদের সঙ্গে ইরানের অসহযোগিতা এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমী দেশগুলি। যদিও তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সমস্ত অভিযোগ তীব্র ভাষায় অস্বীকার করে এসেছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলেই দাবি করে চলেছে। তবে ‘পিকঅ্যাক্স’ ঘিরে এই নতুন তৎপরতা এবং আমেরিকার পালটা সামরিক হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

‘মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে নেই!’ পাকিস্তানের দাবি খারিজ তালিবানের

দক্ষিণ চিন সাগরে ‘ব্রহ্মোস বলয়’: চিনের বেড়াজালে কৌশলগত ফাঁদ পাতছে ভারত?

Advertisements