বিশাল অর্থনৈতিক সাফল্য! ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহে সই আদানি এয়ারপোর্টের

মুম্বই: আদানি গ্রুপের এয়ারপোর্ট বিভাগ এক বিশাল অর্থনৈতিক সাফল্যের খবর নিয়ে এসেছে(Adani Airports)। আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বা নয় হাজার আটশো…

adani-airports-1-billion-funding

মুম্বই: আদানি গ্রুপের এয়ারপোর্ট বিভাগ এক বিশাল অর্থনৈতিক সাফল্যের খবর নিয়ে এসেছে(Adani Airports)। আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বা নয় হাজার আটশো পঁচিশ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহের চুক্তি সই করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার।

Advertisements

আলফা ওয়েভ গ্লোবাল, প্রেমজি ইনভেস্ট, তেমাসেক এবং ব্ল্যাকরক পরিচালিত তহবিলসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিনিয়োগকারী এই কনসোর্টিয়ামে যোগ দিয়েছে। (Adani Airports)তারা মোট পাঁচ দশমিক চুয়ান্ন শতাংশ শেয়ার কিনবে। এই অর্থ তিন ধাপে আসবে এবং শেষ ধাপ সম্পন্ন হবে আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে। খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আদানি এন্টারপ্রাইজেসের শেয়ার প্রায় পাঁচ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ারই প্রমাণ।

   

আরও দেখুনঃ ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বিপদে ভারতের IT শিল্প! আটকে গেল কগনিজেন্টের গ্রিন কার্ড ফাইলিং

আদানি এয়ারপোর্টস (Adani Airports)এখন ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। মুম্বই, আহমেদাবাদ, জয়পুর, লখনউ, গুয়াহাটিসহ আটটি বিমানবন্দর তারা পরিচালনা করে। দেশের মোট যাত্রী যাতায়াতের প্রায় তেইশ শতাংশেরও বেশি এই বিমানবন্দরগুলোর মধ্য দিয়ে হয়। প্রতি বছর প্রায় নয় কোটির মতো যাত্রী এসব বিমানবন্দরে ওঠানামা করেন।

Advertisements

এখন নতুন এই বিনিয়োগের টাকা দিয়ে পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। লক্ষ্য একটাই যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে বছরে প্রায় বিশ কোটি মানুষকে সেবা দেওয়া। অর্থাৎ বর্তমানের দ্বিগুণেরও বেশি।এই অর্থ শুধু রানওয়ে বা টার্মিনাল বানাতেই খরচ হবে না। আদানি এয়ারপোর্ট সিটি নামে এক নতুন ধারণা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমানবন্দরের আশপাশে অফিস, হোটেল, শপিং মল, রেস্তোরাঁসহ মিশ্র ব্যবহারের প্রায় দুই কোটি বিশ লাখ বর্গফুট জায়গা তৈরি করা হবে প্রথম পর্যায়ে। (Adani Airports)যাত্রীদের জন্য আরও ভালো অভিজ্ঞতা তৈরি করতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ অন্যান্য অ-বিমান সংক্রান্ত ব্যবসাও বাড়ানো হবে। সহজ কথায়, বিমানবন্দর শুধু উড্ডয়ন ও অবতরণের জায়গা থাকবে না, বরং একটা পূর্ণাঙ্গ শহরের মতো হয়ে উঠবে।

ভারতের বিমানযাত্রার বাজার এখন দ্রুত বাড়ছে। মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়ছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগের চাহিদা বাড়ছে। সরকারও বিমানবন্দর পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। এমন সময়ে আদানির এই বড় তহবিল সংগ্রহ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা যখন আগ্রহ দেখায়, তখন তা শুধু টাকার বিষয় নয়, আস্থারও বিষয়। গত কয়েক বছরে আদানি গ্রুপ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল।

এখন আবার বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের ওপর ভরসা রাখছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।শেয়ার বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট। আদানি এন্টারপ্রাইজেসের (Adani Airports)শেয়ার প্রায় পাঁচ শতাংশ চড়া হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে। কোম্পানির কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই বিনিয়োগ তাদেরকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বিমানবন্দর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পথে এগিয়ে দেবে। যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা, বাণিজ্যিক আয় বাড়ানো এবং সামগ্রিক ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা এই তিনটি লক্ষ্য নিয়েই তারা এগোচ্ছে।

Advertisements