নয়াদিল্লি: ভারতীয় বিমানবাহিনী আয়োজন করছে ড্রোনাথন-২০২৬। (Droneathon 2026)প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য দেশীয় নির্মাতাদের সুযোগ করে দেওয়া যাতে তারা তাদের মানববিহীন আকাশযান বা ইউএএস এবং কাউন্টার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস বা সিইউএএস প্রযুক্তির সক্ষমতা ও অগ্রগতি প্রদর্শন করতে পারে। এই আয়োজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ নতুন প্রজন্মের ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি দেখতে পাবেন, সেগুলোর কার্যকরী প্রদর্শন প্রত্যক্ষ করবেন এবং পারস্পরিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
ড্রোনাথন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে জয়সলমীরের পোখরান রেঞ্জে। (Droneathon 2026)আগামী ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই ত্রি-দিবসীয় আয়োজন। এতে থাকবে স্থির প্রদর্শনী এবং সরাসরি লাইভ ডেমনস্ট্রেশন। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সমসাময়িক সমাধানগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নজরদারি ও পুনরুদ্ধার, স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা, সোয়ার্ম প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো ক্ষেত্রগুলোর ওপর।
আরও দেখুনঃ রেশন কার্ড বাড়িতে ভুলে গিয়েছেন? চিন্তা নেই, শুধু আধার নম্বর দিলেই মিলবে খাদ্যশস্য
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ আত্মনির্ভর ভারতের জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ড্রোনাথন-২০২৬-এর মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞ, স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবকদের একসঙ্গে এনে দেশীয় প্রতিরক্ষা বাস্তুতন্ত্রকে মজবুত করা হবে। ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, দেশীয় এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত বাহিনী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিতে অটল।
দ্রুত পরিবর্তনশীল (Droneathon 2026)অপারেশনাল পরিবেশে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আজকের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বেড়ে চলেছে। নজরদারি থেকে শুরু করে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ, এমনকি সরাসরি অপারেশন পর্যন্ত ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে শত্রুর ড্রোন মোকাবিলার জন্য কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থারও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ড্রোনাথন-২০২৬ (Droneathon 2026)ঠিক এই দুই দিককেই সামনে রেখে আয়োজন করা হচ্ছে। দেশীয় কোম্পানি ও স্টার্টআপগুলো তাদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শনের সুযোগ পাবে। এর ফলে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি চিহ্নিত করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে সেগুলোকে কাজে লাগানোর পথ খুলবে।পোখরান রেঞ্জের মতো স্থানে এই আয়োজন হওয়ায় লাইভ ডেমনস্ট্রেশনের সুবিধা থাকবে।
বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যাবে। স্ট্যাটিক ডিসপ্লেতে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম দেখানো হবে। অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করে নতুন ধারণা ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারবেন। এই পারস্পরিক শিক্ষার পরিবেশ দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে।আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণে এ ধরনের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। স্টার্টআপ ও উদ্ভাবকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি দ্রুত বিকশিত হতে পারে। ভারতীয় বিমানবাহিনী এই পথেই এগোচ্ছে। প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে থাকা এবং দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ড্রোনাথন-২০২৬ আয়োজন করা হচ্ছে।
