ভারতের সাফল্যের নেপথ্যে সেরা ৩ তারকা, যুব ফুটবলে নতুন আশার আলো

কলকাতা: দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে AFC U-20 এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। ২০০৬ সালের পর আবারও এশিয়ার…

india-afc-u20-asian-cup-2027-danny-arbash-suraj-top-performers

কলকাতা: দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে AFC U-20 এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। ২০০৬ সালের পর আবারও এশিয়ার এই বড় মঞ্চে খেলবে ভারতের যুব দল।

Advertisements

৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ U-20 দলকে হারিয়ে যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন একাধিক তরুণ ফুটবলার। মহেশ গাওয়ালির দল তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ বি-তে দ্বিতীয় হয়েছে। ভারত হারিয়েছে সিরিয়া ও বাংলাদেশকে, যদিও আয়োজক উজবেকিস্তানের কাছে পরাজিত হয়েছে।

   

এই অভিযানে কিছু জায়গায় দুর্বলতা থাকলেও বেশ কয়েকজন তরুণ নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন ড্যানি মেইতেই, মহম্মদ আরবাশ এবং সুরজ সিং আহেইবাম।

৩. সুরজ সিং আহেইবাম

গোলরক্ষক সুরজ সিং আহেইবাম ভারতের হয়ে তিনটি ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। ১৮ বছরের এই মণিপুরি গোলরক্ষক তিন ম্যাচে মোট ৪টি গোল হজম করেছেন এবং দুটি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছেন।

Advertisements

ভারতের বিরুদ্ধে গোল করতে পেরেছিল শুধু উজবেকিস্তান। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সুরজকে খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। তবে সিরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে দলকে গোলশূন্য রাখতে বড় ভূমিকা নেন। তবে সুরজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শুধু গোল আটকানো নয়, বল নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং পাসিং।

বেঙ্গালুরু এফসির এই ফুটবলার ভারতের বিল্ড-আপে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করেছেন। পিছন থেকে আক্রমণ তৈরির সময় তাঁর বল নিয়ন্ত্রণ এবং পাসিং দেখে অনেক সময় মনে হয়েছে, যেন একজন মিডফিল্ডারই দলের রক্ষণ থেকে খেলা পরিচালনা করছেন। রক্ষণে সেভ করার পাশাপাশি আক্রমণ তৈরিতেও তাঁর অবদান থাকায় সুরজ এই অভিযানের অন্যতম উজ্জ্বল খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন।

২. মহম্মদ আরবাশ

এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ১৭ বছরের মহম্মদ আরবাশ। মূলত বেঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বেঙ্গালুরু এফসির এই মণিপুরি মিডফিল্ডার। মহেশ গাওয়ালি তাঁকে তিন ম্যাচেই পরিবর্ত হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আর প্রতিবার মাঠে নেমেই দ্রুত প্রভাব ফেলেছেন আরবাশ। সিরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ভারত যখন ম্যাচের শেষদিকে জয়ের গোলের সন্ধানে ছিল, তখন ৮০ মিনিটে মাঠে নামেন আরবাশ। এরপর ম্যাচের জয়সূচক গোলের আগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি এবং শামির করা গোলের জন্য অ্যাসিস্ট করেন।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ম্যাচটি ভারতের জন্য ছিল কার্যত জিততেই হবে এমন একটি লড়াই। সেখানে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে আরবাশ নিজের নাম স্কোরশিটে তোলেন। তাঁর গোলেই ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তিন ম্যাচে বেঞ্চ থেকে নেমে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন আরবাশ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর এই তাৎক্ষণিক প্রভাবই তাঁকে ভারতের অভিযানের অন্যতম সেরা পারফর্মার করেছে।

১. ড্যানি মেইতেই

ভারতের AFC U-20 এশিয়ান কাপ বাছাই অভিযানে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন ১৮ বছরের মিডফিল্ডার ড্যানি মেইতেই। মণিপুরে জন্ম নেওয়া এবং নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসির এই ফুটবলার সিরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। ভারত সেই ম্যাচে অল্প ব্যবধানে জিতলেও ড্যানি ছিলেন দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। মিডফিল্ডে তাঁর নিয়ন্ত্রণ, বল ধরে রাখা এবং আক্রমণাত্মক জায়গায় উঠে যাওয়ার ক্ষমতা ভারতকে সাহায্য করেছে।

উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে অবশ্য ড্যানি নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। প্রতিপক্ষের শক্তিশালী মিডফিল্ডের বিরুদ্ধে তিনি প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি। কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবার নিজের সেরা রূপে ফেরেন ড্যানি। প্রথমার্ধেই তিনি ভারতের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে ম্যাচের অচলাবস্থা কাটান। শুধু গোল করাই নয়, বাংলাদেশের পেনাল্টি বক্সে বারবার ঢুকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করেন তিনি। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস এবং আক্রমণে নিয়মিত যোগ দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ভারতের এই অভিযানের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফর্মারদের একজন করে তুলেছে।

ভারতের যুব ফুটবলে নতুন আশার আলো

ড্যানি, আরবাশ এবং সুরজের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, ভারতের যুব ফুটবলে প্রতিভার অভাব নেই। তিনজনের ভূমিকা অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। সুরজ পিছন থেকে দলকে নিরাপত্তা দিয়েছেন, আরবাশ বেঞ্চ থেকে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছেন এবং ড্যানি মাঝমাঠে দলের খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। চিনে AFC U-20 এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর মূলপর্বে এবার এই তরুণদের আরও কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। বাছাই পর্বে সাফল্যের পর তাঁদের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে ভারতীয় যুব ফুটবলের জন্য সেটি আরও বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ হয়ে উঠবে।

Advertisements