ইসলামাবাদ: এবার নজরে রাষ্ট্রসংঘ মনোনীত জঙ্গি হাফিজ সাঈদের পুত্র তালহা সাঈদ(Talha Saeed)। সম্প্রতি পাকিস্তানের শেখুপুরায় এক ভাষণে ভারতবিরোধী উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন তালহা। লস্কর-ই-তৈয়বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এই ব্যক্তি ঘোষণা করেছেন যে যতদিন তাঁরা বেঁচে থাকবেন, ততদিন জিহাদের পথেই থাকবেন।
তিনি বলেন, “যতদিন আমরা জীবিত এবং আমাদের মধ্যে শক্তি আছে, ততদিন আমরা এই জিহাদ চালিয়ে যাব এবং কুরবানি দিতে থাকব।”তালহা সাঈদ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করেছেন। তিনি দাবি করেন, মুনির ‘ঈমান, তাকওয়া ও জিহাদ’-এর স্লোগানকে আবার জাগিয়ে তুলেছেন। এই প্রশংসার মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে চরমপন্থী মতাদর্শের সম্পর্ককে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন।
আরও দেখুনঃ যুদ্ধ লাগলে দেশের ভিতরে কোনো জায়গাই সুরক্ষিত নয়! বিস্ফোরক CDS সুব্রামনি
ভাষণে তিনি ইতিহাসের বিকৃত ব্যাখ্যা টেনে ভারতকে লক্ষ্য করেন।(Talha Saeed) তিনি বলেন, এই উপমহাদেশে মুসলমানরা ৫০০ বছর শাসন করেছে। এরপর প্রশ্ন তোলেন, “দিল্লিতে বসে থাকা পাকিস্তানবিরোধী শাসকরা আজ কী ভিত্তিতে কথা বলছেন? তাঁরা কি ভুলে গেছেন দিল্লি কার ছিল এবং ভারতের এই সব অঞ্চল কার ছিল?” এই মন্তব্যকে অনেকেই অতীতের সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাসকে বর্তমান রাজনৈতিক উসকানির হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
হাফেজ সাঈদ ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রয়েছেন। (Talha Saeed)হাফিজ সাঈদকে রাষ্ট্রসংঘ, আমেরিকা ও ভারত জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। লস্কর-ই-তৈয়বা ২০০৮ সালের মুম্বই হামলাসহ বহু সন্ত্রাসবাদী ঘটনার জন্য দায়ী। তালহা সাঈদ নিজেও ভারত ও আমেরিকার নজরে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত।
এমন ব্যক্তির প্রকাশ্যে জিহাদের হুমকি দেওয়া এবং পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের প্রশংসা করা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। (Talha Saeed)ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য নতুন কিছু নয়। পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতারা প্রায়ই প্রকাশ্যে এমন বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। এতে প্রমাণিত হয় যে দেশটিতে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং কখনো কখনো তাঁদের মতাদর্শকে রাজনৈতিক বা সামরিক মহল থেকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
তালহার (Talha Saeed)এই ভাষণ সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।ইতিহাসের দোহাই দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাও সমালোচিত হচ্ছে। মধ্যযুগীয় সুলতানি বা মুঘল শাসনের কথা বলে বর্তমান গণতান্ত্রিক ভারতের ওপর দাবি তোলা বাস্তবতা বিবর্জিত এবং উসকানিমূলক। বিশ্বের কোনো দেশই অতীতের সামরিক বিজয়কে আজকের সীমানা পরিবর্তনের যুক্তি হিসেবে মানে না।
পাকিস্তানের ভিতরেও এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, নিজের দেশে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো সমস্যা থাকতে চরমপন্থীদের এভাবে প্রকাশ্য মঞ্চ দেওয়া দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।
