নয়াদিল্লি: একসময় দেশের সীমান্তবর্তী বহু গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল (border village)। যোগাযোগের অভাব, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে অনেক পরিবারই ধীরে ধীরে সেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছিল। এবার সেই ছবিই বদলানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিকে শুধু নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যেই ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’ বা VVP-এর আওতায় ২,৬১৬টি গ্রামের উন্নয়নে মোট ১১,৬৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ২২ বছরের বঞ্চনা! শহিদ ছেলের শৌর্য চক্র ফেরাতে চান ৮০-র জননী
এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সীমান্তে মোতায়েন থাকা সেনা ও (border village)আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির সরাসরি যোগ তৈরি করা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পোস্টগুলিকে স্থানীয় বাজারের মতো করে গড়ে তোলা হবে।
অর্থাৎ সেখানে কর্মরত জওয়ানদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যতটা সম্ভব আশপাশের গ্রাম থেকেই কেনা হবে। দুধ, শাকসবজি, ডিম, শস্য-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে সরাসরি কেনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
চিন সীমান্তে হিমালয় অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ বা ITBP-কে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী মডেল গ্রামগুলির স্থানীয় উৎপাদকদের কাছ থেকে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একই পথে এগোচ্ছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা BSF-ও। এর ফলে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য স্থানীয় বাজার তৈরি হবে। পাশাপাশি সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর প্রয়োজন মেটাতেও বাইরের বাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে।
সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু স্থানীয় মানুষের আয় বাড়ানো নয়, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে জনবসতি ধরে রাখাও। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সুযোগের অভাবে অনেক মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহর বা অপেক্ষাকৃত উন্নত এলাকায় চলে যাচ্ছিলেন। (border village)এই প্রবণতা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির সামাজিক ও কৌশলগত গুরুত্বের দিক থেকেও উদ্বেগ তৈরি করেছিল। স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে বাসিন্দাদের নিজেদের এলাকায় থাকার সুযোগ তৈরি করাই তাই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
কেন্দ্রের দাবি, ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগের কিছু ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অরুণাচল প্রদেশের কুরুং কুমে, দিবাং ভ্যালি এবং শি-ইয়োমি জেলার কয়েকটি গ্রামে আগে এলাকা ছেড়ে যাওয়া বাসিন্দাদের ফেরার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় স্তরে আয় ও বাজারের সুযোগ তৈরি হলে এই প্রত্যাবর্তন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
VVP-এর পরিকল্পনা অবশ্য শুধুমাত্র স্থানীয় বাজার তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আগামী দিনে সীমান্তবর্তী এই গ্রামগুলিতে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করা, হাসপাতাল তৈরি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ সবকিছুকে একসঙ্গে উন্নত করার মাধ্যমে সীমান্তের গ্রামগুলিকে আরও স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
