নতুন রুট খুঁজছে রেল! ঘণ্টায় ১১০ কিমি বেগে ছুটবে ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেন

কলকাতা: ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন (Hydrogen Train) এবার সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় রেল। ইতিমধ্যেই ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রায়াল সফল…

india-hydrogen-train-110-kmph-new-routes-indian-railways-plan

কলকাতা: ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন (Hydrogen Train) এবার সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় রেল। ইতিমধ্যেই ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রায়াল সফল হয়েছে। এবার বাণিজ্যিকভাবে ১১০ কিলোমিটার/ঘণ্টা পর্যন্ত গতিতে ট্রেনটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও সতীশ কুমার।

Advertisements

ইন্দোরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত হাইড্রোজেন ট্রেনটির অপারেশনাল গতি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে ১২০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। এরপর সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে ট্রেনটি চালানোর চেষ্টা চলছে।

   

কোন রুটে চলবে হাইড্রোজেন ট্রেন?

বর্তমানে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত রুটে চলছে। রুটটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯ কিলোমিটার। তবে ভবিষ্যতে আরও কোন কোন রুটে এই প্রযুক্তির ট্রেন চালানো যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা করছে রেল। কোন রুটে ট্রেন চালানো হবে, তা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা এবং পর্যাপ্ত হাইড্রোজেন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ড্রোন প্রতিরোধে ফের ইতিহাস! চলছে DRDO র নয়া এস-ব্যান্ড হাই পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ প্রোগ্রাম

Advertisements

কীভাবে চলে হাইড্রোজেন ট্রেন?

সাধারণ বৈদ্যুতিক ট্রেনের মতো ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইনের উপর নির্ভর করে না হাইড্রোজেন ফুয়েল-সেল ট্রেন। ট্রেনের ভিতরেই হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রধান উপজাত হিসেবে তৈরি হয় জলীয় বাষ্প ও তাপ। অর্থাৎ জ্বালানি পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না। ফলে ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় ধোঁয়া এবং টেলপাইপ কার্বন নিঃসরণ ছাড়াই অ-বৈদ্যুতিক রুটে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন পরিবহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ১৭ জুলাই ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেন।

আরও আসছে বন্দে ভারত স্লিপার

রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার Express বর্তমানে হাওড়া-কামাখ্যা রুটে পরিষেবা দিচ্ছে। আরও চারটি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেগুলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা। চলতি বছর আরও ১১টি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন রেলের হাতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও PPP বা Public-Private Partnership মডেলে মোট ২০০টি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রেন সম্পূর্ণ করতে আনুমানিক এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সতীশ কুমার।

আরও পড়ুন: ভারত-ইসরায়েল অংশীদারিত্বে সবজি চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছে ভারতের কৃষকরা

সিমহস্থ ২০২৮-এর জন্য ১২৫টি স্পেশাল ট্রেন

২০২৮ সালে উজ্জয়িনীতে অনুষ্ঠিত হতে চলা সিমহস্থ উৎসবের জন্যও বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় রেল। বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর কথা মাথায় রেখে প্রায় ১০০ থেকে ১২৫টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রী সংখ্যা বাড়লে যাতে পরিষেবায় সমস্যা না হয়, তার জন্য রেল পরিকাঠামোও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

রেলে নিরাপত্তায় AI, নজরে ইঁদুরের সমস্যাও

ট্রেনে ইঁদুরের সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলিকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলেও জানান রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান। স্টেশন এবং ট্রেনে নিরাপত্তা বাড়াতে CCTV ক্যামেরার সঙ্গে Artificial Intelligence বা AI প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

১৮,৫০০ কোটি টাকার ইন্দোর-মনমাড় রেললাইন

অন্যদিকে, ১৮,৫০০ কোটি টাকার ইন্দোর-মনমাড় রেললাইন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন সতীশ কুমার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অনুমোদিত এই প্রকল্পটি আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

ইন্দোর ও আশপাশের বিভিন্ন রেল প্রকল্পও পর্যালোচনা করেছেন সতীশ কুমার এবং রেলের শীর্ষ আধিকারিকরা। এর মধ্যে নতুন রেললাইন নির্মাণ, ইন্দোর রেলস্টেশনের পুনর্নির্মাণ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ রয়েছে।

Advertisements