লখনউয়ের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী শারদেন্দু তিওয়ারি (Shardendu Tiwari) দেশের সেবা করার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে দেন, যেখানে তাঁর বার্ষিক প্যাকেজ ছিল ৪৬ লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, তিনি বিশ্বখ্যাত অ্যারোস্পেস কোম্পানি ‘এয়ারবাস’-এর চাকরির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। করপোরেট জগতে উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, শারদেন্দু নিজের ভবিষ্যতের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বেছে নেন। আসুন, তাঁর সম্পর্কে আরও কিছু জেনে নেওয়া যাক।
গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমি (OTA) থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর, তিনি এখন সেনাবাহিনীতে কমিশনড অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ছোটবেলার আকাঙ্ক্ষা এবং বাবার সামরিক চাকরির অনুপ্রেরণা, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ইউনিফর্ম পরিহিত বাবাকে দেখে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা
শরদেন্দু তিওয়ারির বাড়ি লখনউয়ের নীলমথা এলাকায় হলেও তাঁর পারিবারিক শিকড় সুলতানপুরের পিপারগাঁওয়ে। তাঁর বাবা, অনারারি ক্যাপ্টেন রাজ কুমার তিওয়ারি, প্রায় ৩৬ বছর ধরে ‘আর্মি সার্ভিস কোর’-এ কর্মরত ছিলেন। ইউনিফর্ম পরিহিত বাবাকে দেখেই শরদেন্দুর মনে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা জাগে; এই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে তিনি করপোরেট ক্যারিয়ারের পরিবর্তে সেনাবাহিনীকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।
তিনি কোথায় তাঁর পড়াশোনা সম্পন্ন করেন?
শরদেন্দু হরিয়ানার চণ্ডীমন্দিরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ইনফরমেশন টেকনোলজিতে বি.ই. (B.E.) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ইনফরমেশন সিকিউরিটিতে এম.টেক. (M.Tech.) ডিগ্রি লাভ করেন।
সাতবার ব্যর্থতা
শরদিন্দু সেনাবাহিনীতে নির্বাচিত হওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছিলেন; প্রথম সাতবার সফল না হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। অষ্টম প্রচেষ্টায় তিনি ‘টেকনিক্যাল এন্ট্রি স্কিম’-এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নির্বাচিত হন। এই সুযোগটি তাঁকে সেনাবাহিনীর ভেতরে তাঁর কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেয়।
টেবিল টেনিস খেলতে পছন্দ করেন
ওটিএ (OTA) গয়ায় প্রশিক্ষণের সময় তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলী লক্ষ্য করে তাঁকে ‘সিনিয়র আন্ডার অফিসার’ (SUO)-এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। শারদেন্দু বাস্কেটবল ও টেবিল টেনিস খেলতে পছন্দ করেন। তাঁর কাছে সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ কেবল পেশা পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং বাবার কাছ থেকে পাওয়া দেশসেবার ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও একটি মাধ্যম।
