নয়াদিল্লি: DRDO ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন (DRDO SHIELD)এক উদ্যোগ শুরু করেছে। সংস্থাটি শিল্ড প্রোগ্রাম চালু করেছে, যার লক্ষ্য এস-ব্যান্ড হাই পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্দেশিত শক্তি বা ডাইরেক্টেড এনার্জি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং ড্রোন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এবং ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় এ ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।শিল্ড প্রোগ্রামের পুরো নাম এস-ব্যান্ড হাই পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ ইন্টিগ্রেটেড ইভ্যালুয়েশন সিস্টেম। এটি মূলত একটি মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্ল্যাটফর্ম। এর কাজ হবে উচ্চ ক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা।
আরও দেখুনঃ ‘মোদীর ওয়াকফ আইন ত্রুটিপূর্ণ-বেআইনি!’ যোগী রাজ্যে মসজিদ ধ্বংস নিয়ে কটাক্ষ ওয়াইসির
DRDO র প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিলের আওতায় এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। (DRDO SHIELD)দেশীয় শিল্প, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং স্টার্টআপদের সম্পৃক্ত করে প্রযুক্তি তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।এই ব্যবস্থা গ্যালিয়াম নাইট্রাইড বা গ্যাআন সলিড-স্টেট পাওয়ার অ্যামপ্লিফায়ার প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। পুরনো প্রযুক্তিতে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার হতো, যা ভারী এবং কম দক্ষ।
গ্যাআন প্রযুক্তি আরও কমপ্যাক্ট, দক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য। সিস্টেমটি মডুলার ও সম্প্রসারণযোগ্য হবে, যাতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালানো যায়। দূরবর্তী ক্ষেত্রে অন্তত তিন কিলোভোল্ট প্রতি মিটার পিক ইলেকট্রিক ফিল্ড তৈরি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পালসড মোডে বিভিন্ন ডিউটি সাইকেল ব্যবহার করে নানা ধরনের আক্রমণের মডেল তৈরি করা যাবে।এস-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি দুই থেকে চার গিগাহার্জের মধ্যে পড়ে।
এই ব্যান্ডে ওয়াই-ফাই, কিছু স্যাটেলাইট যোগাযোগ, রাডার এবং (DRDO SHIELD)বাণিজ্যিক ড্রোনের কন্ট্রোল লিংক কাজ করে। সামরিক ব্যবস্থাও এই ব্যান্ড ব্যবহার করে। ফলে এই ফ্রিকোয়েন্সিতে উচ্চ ক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ প্রয়োগ করে শত্রুর ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বিকল করা সম্ভব। শিল্ড প্রোগ্রাম সেই সম্ভাবনাগুলো মূল্যায়ন করতে সাহায্য করবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেন্সর, রাডার এবং নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক কীভাবে মাইক্রোওয়েভ আক্রমণের মুখে আচরণ করে, তা পরীক্ষা করা হবে।
ড্রোন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ঝাঁক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ গোলাবারুদ দিয়ে সব ড্রোন মোকাবিলা করা কঠিন ও ব্যয়বহুল। হাই পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র একসঙ্গে একাধিক ড্রোনের ইলেকট্রনিক সার্কিট নষ্ট করে দিতে পারে।
ফলে ড্রোনগুলো নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে বা ভূপাতিত হয়। DRDO ইতিমধ্যেই স্থলভিত্তিক এস-ব্যান্ড হাই পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে। ছোট কোয়াডকপ্টার ড্রোন এক কিলোমিটার দূরত্বে বিকল করার সাফল্য মিলেছে। ভবিষ্যতে এই পাল্লা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
