জয়পুর: AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সাহারানপুর মসজিদ (Asaduddin Owaisi)ধ্বংসের বিতর্ক নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। জয়পুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ওই মসজিদ নির্মাণের সময় স্থানীয় এক মুসলিম পরিবার মসজিদ ও মন্দির দুটোর জন্যই জমি দান করেছিলেন। সেই মসজিদ নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তি এবং আইনি সুরক্ষা পায়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার যে নতুন ওয়াকফ সংশোধনী এনেছে, তা অসাংবিধানিক, ত্রুটিপূর্ণ এবং আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।ওয়াইসি (Asaduddin Owaisi)আরও বলেছেন, ধরে নেওয়া যাক কোনো স্থাপনা সরকারি জমিতে তৈরি হয়েছে এবং ত্রিশ বছর ধরে রয়েছে, তাহলে অধিকারের নীতি অনুযায়ী দখলদারের কিছু অধিকার জন্মায়। তাঁর মতে, বিজেপি ভারতীয় সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে ঘৃণা করে।
আরও দেখুনঃ ভারত-ইসরায়েল অংশীদারিত্বে সবজি চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছে ভারতের কৃষকরা
সেই কারণেই দেশজুড়ে মসজিদ ভাঙা হচ্ছে। জয়পুর ও সাহারানপুরের উদাহরণ দিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেছেন।সাহারানপুরের ঘটনাটি সম্প্রতি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। মসজিদটি অবৈধ স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। অন্যদিকে স্থানীয় মুসলিম সমাজ ও কিছু রাজনৈতিক নেতা বলছেন, এটি দীর্ঘদিনের পুরনো ওয়াকফ সম্পত্তি।
ওয়াইসির (Asaduddin Owaisi)বক্তব্যে সেই দাবিই প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, জমি দানের সময় মসজিদ ও মন্দির দুটোর জন্যই জমি দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ একই পরিবারের দানে দুই ধর্মের উপাসনালয় গড়ে উঠেছিল। এই তথ্য তুলে ধরে তিনি মসজিদটির বৈধতার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।ওয়াকফ আইন সংশোধন নিয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, নতুন সংশোধনী অসাংবিধানিক এবং ত্রুটিপূর্ণ।
ওয়াকফ সম্পত্তির সুরক্ষা কমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। ওয়াকফ সম্পত্তি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। এতে হস্তক্ষেপ করলে সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ন হবে বলেই তাঁর অভিযোগ।ওয়াইসি ‘অ্যাডভার্স পজেশন’ বা প্রতিকূল দখলের নীতির কথাও তুলেছেন। আইন অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে কোনো সম্পত্তি দখলে থাকলে কিছু অধিকার জন্মাতে পারে।
ত্রিশ বছর ধরে কোনো স্থাপনা থাকলে তা সহজে উচ্ছেদ করা যায় না বলে তিনি যুক্তি দিয়েছেন। সাহারানপুরের মসজিদের ক্ষেত্রেও এই যুক্তি প্রয়োগ করা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ আরও তীব্র।
তিনি বলেছেন, দলটি সংবিধানে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ঘৃণা করে। সেই মানসিকতা থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ ভাঙার ঘটনা ঘটছে। জয়পুর ও সাহারানপুরের উদাহরণ দিয়ে তিনি এই দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং একটি বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন।
