প্যাকেটজাত খাবারে মেয়াদের তারিখ নিয়েই প্রশ্ন, লেবেলের তথ্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

কলকাতা: ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা (Packaged Food) নিয়ে বিতর্ক এখন আর শুধু অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর বা আচমকা রেস্তোরাঁয় অভিযানেই সীমাবদ্ধ নেই। নামী রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সুপারমার্কেটের…

packaged-food-expiry-date-tampering-label-information-food-safety-india

কলকাতা: ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা (Packaged Food) নিয়ে বিতর্ক এখন আর শুধু অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর বা আচমকা রেস্তোরাঁয় অভিযানেই সীমাবদ্ধ নেই। নামী রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সুপারমার্কেটের তাক, সর্বত্রই প্রশ্ন উঠছে, আমরা আসলে কী খাচ্ছি এবং সেই খাবার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য কি ক্রেতাদের সঠিকভাবে জানানো হচ্ছে?

Advertisements

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযান ফের এই বিষয়টিকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে তুকারাম মুন্ধের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা কয়েকটি আকস্মিক পরিদর্শন ও অভিযানে খাবারের পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের বাইরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে কম আলোচনায় আসে। সেটি হল প্যাকেটজাত খাবারের লেবেল এবং মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্য।

   

প্যাকেটের মেয়াদ শেষের তারিখ নিয়েই বড় প্রশ্ন

মুম্বইয়ের একটি গুদামে চালানো অভিযানে জনপ্রিয় কিছু প্যাকেটজাত খাবারের মেয়াদ শেষের তারিখ নিয়ে কারচুপির অভিযোগ সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চিপস, নুডলস এবং সফট ড্রিঙ্কের মতো পণ্যের প্যাকেটে থাকা আসল মেয়াদ শেষের তারিখ সরিয়ে তার জায়গায় পরবর্তী কোনও তারিখ বসানো হয়েছিল।

অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। কারণ কোনও পণ্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটিকে নতুন মেয়াদ দেখিয়ে বাজারে বিক্রি করা হলে ক্রেতারা সম্পূর্ণ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সেই খাবার কিনতে পারেন। তবে এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের ফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কোনও নির্দিষ্ট সংস্থা বা পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ কতটা সত্য।

Advertisements

ক্রেতা কতটা ভরসা করবেন প্যাকেটের তথ্যের উপর?

প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় সাধারণত ক্রেতারা কয়েকটি তথ্যের উপর নির্ভর করেন। তার মধ্যে রয়েছে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ শেষের তারিখ, উপাদানের তালিকা, পুষ্টিগত তথ্য এবং প্যাকেটের সামনের দিকের লেবেল। কিন্তু যদি মেয়াদের তারিখ নিয়েই কারচুপি করা হয়, তাহলে শুধু প্যাকেটের উপর ছাপা তথ্য দেখেই খাবারের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এখানেই সামনে আসে আরও বড় প্রশ্ন, খাবারের প্যাকেটে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তা কি সাধারণ ক্রেতার জন্য যথেষ্ট এবং তা কি সহজে বোঝা যায়?

প্রক্রিয়াজাত ও আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার নিয়ে উদ্বেগ

বর্তমান খাদ্যবাজারে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র। নতুন পণ্য বাজারে আনা, স্বাদ পরিবর্তন, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্যতা, দাম নিয়ন্ত্রণ এবং আকর্ষণীয় প্যাকেজিংয়ের পাশাপাশি সংস্থাগুলিকে ক্রেতার পছন্দের সঙ্গেও তাল মিলিয়ে চলতে হয়। এই প্রতিযোগিতার প্রভাব খাবারের ফর্মুলেশন এবং মার্কেটিংয়ের উপর পড়তে পারে।

বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত এবং আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার নিয়ে বিশ্বজুড়েই আলোচনা বাড়ছে। এই ধরনের খাবারে বিভিন্ন উপাদান, সংযোজক এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ফলে কোনও খাবার সম্পর্কে শুধু বিজ্ঞাপন বা প্যাকেটের সামনের দিকের আকর্ষণীয় দাবি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে উপাদানের তালিকা এবং পুষ্টিগত তথ্যও দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই পরিস্থিতিতে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং বা প্যাকেটের সামনের অংশে সহজে বোঝা যায় এমন পুষ্টিগত তথ্য দেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একজন সাধারণ ক্রেতা সুপারমার্কেটের তাক থেকে কোনও পণ্য নেওয়ার সময় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেন। প্যাকেটের পিছনে থাকা দীর্ঘ উপাদান তালিকা বা জটিল পুষ্টিগত তথ্য পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। তাই প্যাকেটের সামনের দিকে যদি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগত তথ্য সহজ ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়, তাহলে ক্রেতা তুলনামূলকভাবে দ্রুত বুঝতে পারেন তিনি কী কিনছেন। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যখন একই ধরনের একাধিক পণ্য পাশাপাশি রাখা থাকে এবং বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের পণ্যকে স্বাস্থ্যকর বা আকর্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরে।

শুধু অভিযান নয়, দরকার স্বচ্ছতা

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেস্তোরাঁয় অভিযান বা গুদামে পরিদর্শন অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ক্রেতাদের আস্থা তৈরি করতে হলে খাদ্য উৎপাদন থেকে প্যাকেজিং, লেবেলিং এবং বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা জরুরি। মেয়াদ শেষের তারিখ নিয়ে কারচুপির মতো অভিযোগ সেই ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে আনে। একইসঙ্গে প্যাকেটের সামনের দিকে পরিষ্কার পুষ্টিগত তথ্য দেওয়ার দাবি ক্রেতাদের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারে।

শেষ পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন শুধু খাবারটি রান্নার সময় পরিষ্কার ছিল কি না, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খাবারটি কী দিয়ে তৈরি, কতদিন পর্যন্ত নিরাপদ, প্যাকেটে দেওয়া তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য এবং ক্রেতা সেই তথ্য বুঝতে পারছেন কি না, সবকিছুই খাদ্য নিরাপত্তার অংশ।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Advertisements